পোশাকশ্রমিকদের নতুন মজুরি নির্ধারণে ৬ সদস্যের বোর্ড গঠন: রাস্তা ছেড়ে কারখানায় ফেরার আহ্বান শ্রমমন্ত্রীর
নিজস্ব প্রতিবেদক:
তৈরি পোশাকশিল্পের শ্রমিকদের বহুপ্রতিক্ষিত নতুন ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে ছয় সদস্যবিশিষ্ট আনুষ্ঠানিক মজুরি বোর্ড গঠন করেছে সরকার। প্রধান দাবি পূরণ হওয়ায় আন্দোলনরত পোশাকশ্রমিকদের রাজপথ ছেড়ে অবিলম্বে নিজ নিজ কারখানায় কাজে ফিরে যাওয়ার উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।
আজ রবিবার (১ নভেম্বর ২০২৬) সচিবালয়ে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এ মজুরি বোর্ড গঠনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন মন্ত্রী।
অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ শেখ আশফাকুর রহমানের নেতৃত্বে এই উচ্চপর্যায়ের মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে।
বোর্ডের সদস্য কারা:
শ্রম আইন অনুযায়ী গঠিত ছয় সদস্যের এই বোর্ডে নিরপেক্ষ বিশেষজ্ঞ, মালিক ও শ্রমিক—উভয় পক্ষের প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বোর্ডের অন্য সদস্যরা হলেন:
নিরপেক্ষ প্রতিনিধি: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোক প্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ড. মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ।
মালিকপক্ষের প্রতিনিধি: বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের যুগ্ম মহাসচিব আসিফ আইয়ুব এবং বিজিএমইএর পরিচালক এ বি এম শামসুদ্দিন।
শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধি: বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক বাবুল আক্তার।
‘আজ থেকেই কাজ শুরু, দ্রুততম সময়ে মজুরি ঘোষণা’:
শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী জানান, আজ থেকেই এই নিম্নতম মজুরি বোর্ডের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়ে গেছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে বোর্ডের প্রথম সভা আহ্বান করা হবে।
সেখানে মালিক ও শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধিদের সাথে বিশদ পর্যালোচনার মাধ্যমে বর্তমান জীবনযাত্রার ব্যয় ও মূল্যস্ফীতির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে শ্রমিকদের নতুন ন্যূনতম মজুরির আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হবে।
বাইরের ইন্ধন ও ডিসেম্বরের ষড়যন্ত্রের অভিযোগ:
মজুরি বোর্ড গঠনের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হওয়ার পরও শ্রমিকদের একটি অংশকে রাজপথে নামিয়ে সহিংসতা সৃষ্টির পেছনে গভীর ষড়যন্ত্র দেখছেন শ্রমমন্ত্রী।
সংবাদ সম্মেলনে ক্ষোভ প্রকাশ করে আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, “মজুরি বোর্ড গঠনের ঘোষণার পরও একটি স্বার্থান্বেষী মহল শ্রমিকদের বিভ্রান্ত করে রাস্তায় নামিয়েছে। শ্রমিকদের এই আন্দোলনের আড়ালে বাইরের একটি অশুভ মহলের গভীর ইন্ধন থাকতে পারে। বিশেষ করে আগামী ডিসেম্বর মাসকে ঘিরে দেশকে পরিকল্পিতভাবে অস্থিতিশীল করার যে অপচেষ্টা ও ছক চলছে, মিরপুরের এই অরাজকতার সঙ্গে তার স্পষ্ট যোগসূত্র রয়েছে।”
তিনি পোশাক খাতের স্বার্থরক্ষা এবং জাতীয় অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে শ্রমিকদের গুজবে কান না দেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে বলেন, “আপনাদের প্রধান দাবি মেনে সরকার বোর্ড গঠন করেছে। এই বোর্ড দ্রুততম সময়ের মধ্যে একটি সম্মানজনক নতুন মজুরি কাঠামো ঘোষণা করবে। তাই আপনারা রাজপথ পরিহার করে কারখানায় ফিরে যান এবং উৎপাদনে অংশ নিন।”
দৈনিক জীবনযাত্রা