বিশ্বনাথে শাপলা ফুল তুলতে গিয়ে হাওরের পানিতে ডুবে কিশোরের মর্মান্তিক মৃত্যু
শাহ তোফাজ্জুল হোসেন ভান্ডারী | সিলেট প্রতিনিধি, দৈনিক জীবনযাত্রা
প্রকাশ: ০৮ জুলাই, ২০২৬
বিশ্বনাথ (সিলেট): সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলায় শাপলা ফুল তুলতে গিয়ে হাওরের পানিতে ডুবে মাহিদ আলী (১২) নামের এক কিশোরের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। আজ বুধবার (৮ জুলাই) বেলা আনুমানিক ২টার দিকে উপজেলার চাউলধনী হাওরের বেটুয়ার পাড় এলাকায় এই হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনাটি ঘটে।
নিহত মাহিদ আলী উপজেলার দশঘর ইউনিয়নের পশ্চিম নোয়াগাঁও গ্রামের মৃত সাহিদ আলীর ছেলে। বাবার মৃত্যুর পর কিশোর মাহিদের এমন আকস্মিক চলে যাওয়া কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছে না তার পরিবার।
ঘাস কাটার ফাঁকে শাপলা তুলতে গিয়ে দুর্ঘটনা
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আজ বুধবার দুপুরের দিকে বাদ জোহর মাহিদ অন্য সঙ্গীদের সাথে একটি ছোট নৌকা নিয়ে গবাদি পশুর জন্য ঘাস কাটতে বাড়ির কাছের চাউলধনী হাওরে যায়। সবাই যখন হাওরের বিভিন্ন প্রান্তে ঘাস কাটায় ব্যস্ত, তখন মাহিদ বেটুয়ার পাড় নামক স্থানে সঙ্গীদের থেকে কিছুটা দূরে নৌকা নিয়ে শাপলা ফুল তুলতে শুরু করে।
কিছু সময় পার হওয়ার পর তার সঙ্গীরা দূর থেকে লক্ষ্য করেন যে, মাহিদের নৌকাটি সম্পূর্ণ খালি অবস্থায় পানিতে ভেসে আছে, কিন্তু নৌকায় বা আশেপাশে মাহিদের কোনো হদিস নেই। এই দৃশ্য দেখে সঙ্গীদের মনে সন্দেহের সৃষ্টি হয় এবং তারা দ্রুত নিজেদের নৌকা নিয়ে মাহিদের নৌকার কাছে এগিয়ে যান।
শাপলা গাছে জড়ানো লাশ উদ্ধার
মাহিদের নৌকার কাছাকাছি পৌঁছানোর পর সঙ্গীরা পানির দিকে তাকিয়ে শিউরে ওঠেন। তারা দেখতে পান, নৌকা থেকে কিছুটা দূরে পানির নিচে শাপলা গাছের লতাগুল্মের সাথে মাহিদের নিথর দেহটি জড়িয়ে আছে এবং সে ভাসমান অবস্থায় রয়েছে। সঙ্গীরা তাৎক্ষণিকভাবে পানি থেকে মাহিদকে উদ্ধার করে দ্রুত স্থানীয় একজন পল্লী চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান। তবে সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে কর্তব্যরত চিকিৎসক কিশোর মাহিদকে মৃত ঘোষণা করেন।
ধারণা করা হচ্ছে, নৌকা থেকে ঝুঁকে গভীর পানির শাপলা তুলতে গিয়ে সে ভারসাম্য হারিয়ে হাওরের পানিতে পড়ে যায়। সাঁতার না জানা অথবা পানির নিচে শাপলার লতার সাথে পা পেঁচিয়ে যাওয়ার কারণে সে আর ওপরে উঠতে পারেনি এবং পানিতে দম আটকে তার মৃত্যু হয়।
এলাকায় শোকের ছায়া
নিহত মাহিদের বাবা সাহিদ আলী আগেই মারা গেছেন। অবুজ ছেলেকে হারিয়ে মা ও পরিবারের সদস্যরা এখন বাকরুদ্ধ ও শয্যাশায়ী। তাদের আহাজারিতে পশ্চিম নোয়াগাঁও গ্রামের আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে। এই ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে পুরো এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে আসে। বর্ষা মৌসুমে হাওরাঞ্চলের শিশুদের দিকে বাড়তি নজর রাখার জন্য স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহল সকলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
এস এম সোহাগ ফরাজী