সিলেটে শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্স দ্বিতীয় দফায় খোলা হচ্ছে শনিবার
সিলেট প্রতিনিধি | শাহ্ তোফাজ্জল হোসেন ভানডারী।
প্রকাশ: ০৮ জুলাই, ২০২৬
সিলেট: সিলেটের আধ্যাত্মিক রাজধানী খ্যাত হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্স (সিন্দুক) দ্বিতীয় দফায় খোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আগামী শনিবার (১১ জুলাই) দুপুর ১২টা থেকে মাজার প্রাঙ্গণের উন্মুক্ত স্থানে সর্বসাধারণের সম্মুখে এই দানবাক্সের টাকা গণনার কাজ শুরু হবে।
আজ বুধবার (৮ জুলাই) গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের প্রশাসক এবং মাজার কমিটির দায়িত্বে থাকা রেজাউল হাসান কয়েস লোদী।
মাজার কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, মাজারের দানবাক্সগুলো খোলার পর সেখানে জমা হওয়া দেশি-বিদেশি মুদ্রা ও স্বর্ণালঙ্কার গণনার জন্য ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। এই কার্যক্রমকে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে সম্পন্ন করতে আগামীকাল বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বিকেল ৪টায় একটি বিশেষ সমন্বয় সভা আহ্বান করা হয়েছে। এই সভায় মাজার প্রশাসনের কর্মকর্তা, ব্যাংক প্রতিনিধি এবং নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত থাকবেন।
স্বচ্ছতা নিশ্চিতে উন্মুক্ত স্থানে গণনা
সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের প্রশাসক রেজাউল হাসান কয়েস লোদী জানান, “মাজারের দানবাক্সের টাকা গণনার পুরো প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত স্বচ্ছ রাখতে আমরা বদ্ধপরিকর। প্রথম দফার মতো এবারও মাজার প্রাঙ্গণের উন্মুক্ত স্থানে সবার সামনে টাকা গণনা করা হবে। গণনার কাজে ব্যাংকের কর্মকর্তা, মাদ্রাসার ছাত্র এবং মাজারের খাদেমরা অংশ নেবেন।”
তিনি আরও জানান, বৃহস্পতিবারের সমন্বয় সভায় টাকা গণনা কার্যক্রমের সার্বিক নিরাপত্তা ও লোকবল বণ্টনের বিষয়টি চূড়ান্ত করা হবে। মাজারের টাকার যাতে কোনো ধরনের অপচয় বা তছরুপ না হয়, সেদিকে কঠোর নজরদারি রাখা হচ্ছে।
মাজারে ভক্তদের ঢল ও অনুদান
হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারে প্রতিদিন দেশ-বিদেশের হাজার হাজার ভক্ত ও দর্শনার্থী আসেন। তারা মাজারের উন্নয়ন ও সেবামূলক কাজের জন্য নগদ টাকা, বৈদেশিক মুদ্রা এবং স্বর্ণালঙ্কার দানবাক্সে মানত হিসেবে দিয়ে থাকেন। সাধারণত কয়েক মাস পর পর এই সিন্দুকগুলো খোলা হয়। এর আগে প্রথম দফায় দানবাক্স খোলার পর বিপুল পরিমাণ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার পাওয়া গিয়েছিল। এবারও মাজারের সিন্দুকগুলোতে রেকর্ড পরিমাণ অনুদান জমা হয়েছে বলে ধারণা করছে মাজার প্রশাসন।
নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার
শনিবারের এই টাকা গণনা কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে মাজার এলাকায় বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি মাজারের নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবক দলও নিয়োজিত থাকবে। সিসিটিভি ক্যামেরার সার্বক্ষণিক নজরদারির মাধ্যমে পুরো গণনা প্রক্রিয়াটি রেকর্ড করা হবে বলে নিশ্চিত করেছে মাজার কর্তৃপক্ষ। মাজারের এই আয়ের টাকা দিয়ে মাজারের রক্ষণাবেক্ষণ, লঙ্গরখানা পরিচালনা এবং বিভিন্ন ধর্মীয় ও জনকল্যাণমূলক কাজ সম্পাদন করা হয়।
দৈনিক জীবন যাএা
এস এম সোহাগ ফরাজী