উগ্রবাদে জড়িত সন্দেহে গ্রেপ্তার এনসিপি নেতা আতাউল্লাহ শাহ দল থেকে স্থায়ী বহিষ্কার
স্টাফ রিপোর্টার | দৈনিক জীবনযাত্রা
প্রকাশ: ০৮ জুলাই, ২০২৬
ঢাকা: উগ্রবাদী সংগঠনের কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থেকে গ্রেপ্তার হওয়া জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা আতাউল্লাহ শাহকে দল থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। তিনি এনসিপির গাজীপুর মহানগর শাখার যুগ্ম সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন।
দলীয় নীতি ও আদর্শ পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার গুরুতর অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে দলটির কেন্দ্রীয় কমিটি। গতকাল মঙ্গলবার (৭ জুলাই) গভীর রাতে এনসিপির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এই বহিষ্কারাদেশের চিঠিটি প্রকাশ করা হয়।
এনসিপির দপ্তর সেলের সদস্য সাদিয়া ফারজানা স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে আতাউল্লাহর উদ্দেশে বলা হয়েছে, “আপনার বিরুদ্ধে সংগঠনের নীতি ও আদর্শ পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার বিষয়ে একটি গুরুতর অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে। এমন অবস্থায় দলীয় গঠনতন্ত্র ও প্রযোজ্য সাংগঠনিক বিধান অনুযায়ী আপনাকে এনসিপির গাজীপুর মহানগর আহ্বায়ক কমিটির যুগ্ম সদস্যসচিব পদসহ দলের সব পর্যায়ের সাংগঠনিক দায়িত্ব এবং প্রাথমিক সদস্যপদ হতে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হলো।” চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, এই বহিষ্কারাদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।
যাত্রাবাড়ী থেকে সহযোগীসহ গ্রেপ্তার
এর আগে গত ৫ জুলাই (রবিবার) সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর ‘মিনি কক্সবাজার’ এলাকার একটি বালুর মাঠ থেকে এনসিপি নেতা আতাউল্লাহ শাহসহ মোট ছয় যুবককে আটক করে পুলিশ। উগ্রবাদী সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততার সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে যাত্রাবাড়ী থানা পুলিশ সেখানে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে।
গ্রেপ্তার হওয়া অন্য পাঁচ যুবক হলেন— শাহ আমানত সাবির, হোসাইন তানিম, জুনায়েদ, আবিদুর রহমান ও বায়োজিত। বর্তমানে আতাউল্লাহ শাহসহ এই ছয়জনই পুলিশের হেফাজতে রিমান্ডে রয়েছেন।
বালুর মাঠে উগ্রবাদী প্রশিক্ষণের উদ্দেশ্যে জমায়েত
আদালতে জমা দেওয়া পুলিশের রিমান্ড আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ঘটনার দিন যাত্রাবাড়ী এলাকায় নিয়মিত টহল ও অভিযান তদারকির সময় পুলিশের কাছে একটি গোপন তথ্য আসে। তথ্যে জানা যায়, মিনি কক্সবাজার এলাকায় আমিন মোহাম্মদ গ্রুপের পাশের একটি পরিত্যক্ত বালুর মাঠে কয়েকজন ব্যক্তি উগ্রবাদী সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালনার উদ্দেশ্যে এবং প্রশিক্ষণের জন্য সমবেত হয়েছেন।
এই তথ্যের ভিত্তিতে যাত্রাবাড়ী থানার একটি বিশেষ দল সেখানে ঝটিকা অভিযান চালায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে সমবেত যুবকদের মধ্যে কয়েকজন পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও, পুলিশ চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে আতাউল্লাহ শাহসহ এই ছয়জনকে হাতেনাতে আটক করতে সক্ষম হয়।
৩ দিনের রিমান্ডে আসামিরা
আটকের দিনই (৫ জুলাই) যাত্রাবাড়ী থানার পরিদর্শক এ বি সিদ্দিক গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতে হাজির করেন। উগ্রবাদী নেটওয়ার্কের মূল হোতাদের খুঁজে বের করতে এবং তাঁদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নস্যাৎ করার লক্ষ্যে ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করা হয়। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত আতাউল্লাহসহ ছয় আসামির প্রত্যেককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। পুলিশ জানায়, উগ্রবাদী এই চক্রটির পেছনে আর কার কার ইন্ধন বা অর্থায়ন রয়েছে, তা জানতে রিমান্ডে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
——-
এস এম সোহাগ ফরাজী