জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দুই বছর: ‘আকাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ এখনো পাইনি’—বললেন নাহিদ ইসলাম
ঢাকা, ১ জুলাই ২০২৬: জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে মাসব্যাপী ‘দেশ গড়তে জুলাই জাগরণ’ কর্মসূচি শুরু করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। বুধবার সকালে ঢাকার রায়েরবাজারে জুলাইয়ের শহিদদের গণকবর জিয়ারতের মধ্য দিয়ে এ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক সূচনা করা হয়।
কর্মসূচিতে অংশ নেন এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম, সদস্যসচিব আখতার হোসেন, দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীসহ দলের কেন্দ্রীয় নেতারা।
গণকবর জিয়ারত শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে নাহিদ ইসলাম বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দুই বছর পার হলেও আন্দোলনের মূল লক্ষ্য অনুযায়ী বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক ও সংস্কারভিত্তিক বাংলাদেশ এখনো প্রতিষ্ঠিত হয়নি। তার ভাষায়, জুলাই গণহত্যার বিচার এবং কাঠামোগত সংস্কারের মাধ্যমে যে নতুন বাংলাদেশের প্রত্যাশা ছিল, তা এখনো বাস্তবায়িত হয়নি।
সাম্প্রতিক একটি ট্রাইব্যুনালের রায়ের প্রসঙ্গ টেনে তিনি দাবি করেন, ওই রায়ে সাধারণ মানুষ, শহীদ পরিবার এবং আহতদের প্রত্যাশিত ন্যায়বিচার প্রতিফলিত হয়নি। তিনি অভিযোগ করেন, সাবেক মন্ত্রী হাসানুল হক ইনু জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় গণহত্যায় সহযোগিতা করেছিলেন। তার বিরুদ্ধে ঘোষিত সাজা যথেষ্ট নয় বলে মন্তব্য করে রাষ্ট্রপক্ষকে উচ্চ আদালতে আপিল করার আহ্বান জানান তিনি এবং আরও কঠোর শাস্তির দাবি জানান।
এছাড়া নাহিদ ইসলাম বলেন, ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তার ভাষ্য অনুযায়ী জুলাই গণহত্যা ও অন্যান্য হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্তদের দেশে ফিরিয়ে এনে বিচার সম্পন্ন করতে হবে। তিনি শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তি কার্যকরের দাবিও জানান। উল্লেখ্য, এসব বক্তব্য নাহিদ ইসলামের রাজনৈতিক দাবি ও মতামত; এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের প্রতিক্রিয়া এই প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত নয়।
সংস্কার বাস্তবায়নের বিষয়েও তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। নাহিদ ইসলামের ভাষ্য, গণভোট ও নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী কাঠামোগত সংস্কার এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। তাই কেবল আনুষ্ঠানিকভাবে জুলাই উদযাপন নয়, বরং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, ৫ আগস্টের মধ্যে জুলাই জাতীয় জাদুঘর চালু করতে হবে। অন্যথায় জনগণ নিজেরাই সেই জাদুঘর উন্মুক্ত করার উদ্যোগ নেবে বলেও মন্তব্য করেন।
এ সময় জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহত ও আহতদের স্মরণ করে নাহিদ ইসলাম শহীদ আবু সাঈদ, মুগ্ধ, ওয়াসিম, ফারহান ফায়াজ, রিয়াগোপসহ সকল শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। পাশাপাশি আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থী, শ্রমিক, নারী, শিক্ষক, সাংবাদিক, আইনজীবী, আলেম, সাংস্কৃতিক কর্মী, প্রবাসী বাংলাদেশি এবং বিভিন্ন পেশাজীবীর অবদানের কথাও স্মরণ করেন।
কর্মসূচিতে আরও উপস্থিত ছিলেন এনসিপির ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব, যুগ্ম আহ্বায়ক আলী আহসান জুনায়েদ, যুগ্ম সদস্যসচিব আকরাম হুসাইন সিএফ, অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল আমিন এমপি, জাতীয় যুবশক্তির সভাপতি অ্যাডভোকেট তারিকুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক রিফাত রশীদ, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক ইসহাক সরকার, সদস্যসচিব এস এম শাহরিয়ারসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
দৈনিক জীবন যাএা
এস এম সোহাগ ফরাজী