স্বর্ণের দুলের লোভে শিশুহত্যার অভিযোগ, বগুড়ায় চাঞ্চল্য
বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার সান্তাহার পৌর এলাকায় সাড়ে ছয় বছর বয়সী এক শিশুর মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, শিশুটির কানে থাকা স্বর্ণের দুলের লোভেই তাকে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় তিনজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ।নি
নি যেহত শিশুর নাম রাকা মুনি (৬)। সে সান্তাহার পৌর শহরের সাহেবপাড়া এলাকার বাসিন্দা রায়হান উদ্দিনের মেয়ে।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (১২ জুন) বিকেলে প্রাইভেট পড়তে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয় রাকা। নির্ধারিত সময় পার হলেও সে বাড়ি না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে ওঠেন। বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজির পরও তার কোনো সন্ধান না পেয়ে আদমদীঘি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।
পরে স্থানীয়দের সহায়তায় আশপাশের বাড়িগুলোতে তল্লাশি চালানো হয়। একপর্যায়ে এক প্রতিবেশীর আচরণ সন্দেহজনক মনে হলে তার বাড়িতে অনুসন্ধান করা হয়। সেখানে একটি মুরগির ঘরের ভেতর বস্তাবন্দি অবস্থায় শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।
ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দা আমজাদ হোসেন, তার স্ত্রী বন্যা বেগম এবং আরেক প্রতিবেশী বাবুকে আটক করা হয়েছে। তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পরিবারের সদস্যরা জানান, পারিবারিক জটিলতার কারণে রাকার মা আলাদা সংসার শুরু করার পর শিশুটি মূলত তার ফুফু লিপি আক্তারের কাছেই বড় হচ্ছিল। বাবা কর্মসূত্রে বাইরে থাকায় ফুফুই তার দেখাশোনা করতেন। স্থানীয় একটি মাদরাসায় পড়াশোনা করছিল রাকা।
নিহতের ফুফু লিপি আক্তার অভিযোগ করেন, কয়েকদিন ধরে অভিযুক্ত আমজাদ তাদের কাছে টাকা ধার চাইছিলেন। টাকা না পাওয়ার পর শিশুটির কানে থাকা প্রায় দুই আনা ওজনের স্বর্ণের দুলের প্রতি তার লোভ সৃষ্টি হয়েছিল বলে তাদের ধারণা। তিনি দাবি করেন, ওই স্বর্ণের দুল হাতিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যেই রাকাকে হত্যা করা হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেন।
শিশুটির হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় উত্তেজনা দেখা দেয়। ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা অভিযুক্তের বাড়িতে ভাঙচুরের চেষ্টা করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
সান্তাহার পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক খন্দকার ফরিদ হোসেন বলেন, প্রাথমিকভাবে স্বর্ণালংকারের লোভ থেকে হত্যাকাণ্ডটি সংঘটিত হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়। ঘটনার পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না বা আরও কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
আদমদীঘি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুজ্জামান মিয়া জানান, আটক ব্যক্তিরা বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তারা সুস্থ হওয়ার পর বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত কারণ ও সংশ্লিষ্টতা সম্পর্কে আরও তথ্য জানা যাবে।
পুলিশ জানিয়েছে, শিশুহত্যার এই ঘটনাকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে নিষ্পাপ এক শিশুর এমন মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করে প্রকৃত অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।