মিরপুরে শ্রমিক আন্দোলন ঘিরে নাশকতা ও পুলিশের গাড়িতে আগুন: নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীসহ আটক ২৮
রাজধানী প্রতিবেদক:
ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে রাজধানীর মিরপুরে তৈরি পোশাকশ্রমিকদের চলমান আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ব্যাপক সহিংসতা, পুলিশের গাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও নাশকতার অভিযোগে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীসহ ২৮ জনকে আটক করেছে পুলিশ।
আজ রবিবার (১ নভেম্বর ২০২৬) মিরপুরের বিভিন্ন পয়েন্টে অভিযান চালিয়ে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও থানা পুলিশ যৌথভাবে তাঁদের আটক করে।
পুলিশের দাবি, সাধারণ পোশাকশ্রমিকদের যৌক্তিক আন্দোলনকে ব্যবহার করে রাজধানীজুড়ে বড় ধরনের অস্থিতিশীলতা ও নাশকতা সৃষ্টির পরিকল্পনা করেছিল নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
ডিবি ও মিরপুর বিভাগের যৌথ অভিযানে ২৮ জন আটক:
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিবি) মিরপুর বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মোহাম্মদ রাকিব খান জানান, পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলনের সুযোগ নিয়ে সহিংসতা ছড়ানোর সময় ঘটনাস্থল থেকে ডিবি পুলিশ প্রথমে ১১ জনকে আটক করে।
অন্যদিকে ডিএমপির মিরপুর বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মোহাম্মদ নাছের রিকাবদার জানান, মিরপুর থানা ও ক্রাইম ডিভিশন পৃথক অভিযান চালিয়ে আরও ১৭ জনকে আটক করেছে। সব মিলিয়ে এ ঘটনায় মোট ২৮ জনকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
ডিসি আবু নাসের রিকাবদার জানান, আটক ব্যক্তিরা নাশকতার পর কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের ব্যানারে ঝটিকা মিছিল বের করার জোর প্রস্তুতি নিচ্ছিল।
নেপথ্যে ঢাকার বাইরে থেকে কর্মী আনা ও সাবেক এমপির ভাগ্নে:
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্তে উঠে এসেছে, মিরপুরের পলাতক সাবেক সংসদ সদস্য ইলিয়াস মোল্লার ভাগ্নে আলিফ মোল্লা এই নাশকতার মূল সমন্বয়ক হিসেবে কাজ করছেন। আলিফই মূলত ঢাকার বাইরের বিভিন্ন জেলা থেকে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ক্যাডারদের রাজধানীতে জড়ো করেছিলেন।
ডিবি কর্মকর্তা রাকিব খান জানান, আন্দোলনস্থলে শ্রমিকদের ছদ্মবেশে দলটির শতাধিক নেতাকর্মী সক্রিয়ভাবে উপস্থিত থেকে ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও অরাজকতা উসকে দেয়। ঘটনাস্থল থেকে আটককৃতদের মধ্যে রাকিব ও আরিফ নামের দুজনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে, বাকিদের রাজনৈতিক পরিচয় ও বিস্তারিত যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।
রণক্ষেত্র মিরপুর, মেট্রো স্টেশন বন্ধ ও জনভোগান্তি:
আজ সকাল সাড়ে ৯টা থেকেই মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বর, মিরপুর-১১ ও আশপাশের এলাকায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন কয়েক হাজার শ্রমিক। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মিরপুর-১১ নম্বর এলাকায় পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। এর পরপরই আন্দোলনকারীদের সাথে পুলিশের দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষ বাঁধে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে।
সংঘর্ষ ও চরম উত্তেজনাকর পরিস্থিতির কারণে নিরাপত্তার স্বার্থে দুপুর থেকে মিরপুর-১০, মিরপুর-১১ এবং পল্লবী—এই তিনটি মেট্রোরেল স্টেশনের কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়। এতে সড়ক ও রেল উভয় যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েন সাধারণ নাগরিক ও কর্মজীবী মানুষ।
দুপুর ২টার পর অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হলে সড়কে যান চলাচল ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করে। ডিএমপি জানিয়েছে, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে নাশকতায় জড়িত অন্যান্য পলাতকদের গ্রেপ্তারে সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
দৈনিক জীবনযাত্রা
এস এম সোহাগ ফরাজী