গ্রামীণ কল্যাণকে ৬৬৬ কোটি টাকা কর পরিশোধের নির্দেশ: হাইকোর্টে রিট খারিজ
স্টাফ রিপোর্টার: শাহ তোফাজ্জুল হোসেন ভান্ডারী, দৈনিক জীবনযাত্রা
ঢাকা:
পাঁচটি করবর্ষের বিপরীতে পুনর্মূল্যায়ন করা প্রায় ৬৬৬ কোটি টাকা বকেয়া কর গ্রামীণ কল্যাণকে পরিশোধ করতে হবে বলে রায় দিয়েছেন উচ্চ আদালত। সংশ্লিষ্ট কর কমিশনারের কর দাবির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে প্রতিষ্ঠানটির দায়ের করা পৃথক দুটি রিট আবেদন সরাসরি খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬) বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি রেজাউল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ দীর্ঘ শুনানি শেষে এ রায় ঘোষণা করেন। উল্লেখ্য, গ্রামীণ কল্যাণের চেয়ারম্যান ছিলেন সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।
আদালতে গ্রামীণ কল্যাণের পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ফিদা এম কামাল, সরদার জিন্নাত আলী ও আইনজীবী আবদুল্লাহ আল মামুন। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি পরিচালনা করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আবদুস সামাদ আজাদ।
রায়ের পর রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আবদুস সামাদ আজাদ জানান, ২০১২-১৩ থেকে ২০১৬-১৭ পর্যন্ত পাঁচটি করবর্ষে গ্রামীণ কল্যাণের কাছে পুনর্মূল্যায়ন শেষে প্রায় ৬৬৬ কোটি টাকা কর অনাদায়ি দাবি করে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কর কমিশনার। কর কমিশনারের এই দাবির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে গ্রামীণ কল্যাণ দুটি পৃথক রিট আবেদন করে। আদালত উভয় পক্ষের চূড়ান্ত শুনানি শেষে রিটের রুল সরাসরি খারিজ করে দিয়েছেন। এর ফলে কর দাবি আদায়ে আইনি আর কোনো বাধা থাকল না। নিয়মানুযায়ী কর বিভাগ এখন ৩০ দিনের সময় বেঁধে দিয়ে বকেয়া অর্থ পরিশোধের জন্য ডিমান্ড নোটিশ জারি করবে।
এদিকে গ্রামীণ কল্যাণের আইনজীবী আবদুল্লাহ আল মামুন জানিয়েছেন, “পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর পর্যবেক্ষণের বিস্তারিত জানা যাবে। রায়ের প্রত্যায়িত অনুলিপি পাওয়ার পর উচ্চ আদালতের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আমরা আপিল বিভাগে যাওয়ার সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করব।”
মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, ২০১২-১৩ থেকে ২০১৬-১৭ করবর্ষের কর পুনর্মূল্যায়নের বিরুদ্ধে ২০১৭ সালে উচ্চ আদালতে দুটি রিট করে গ্রামীণ কল্যাণ। ২০২৩ সালে হাইকোর্টের এক রায়ে কর কমিশনারের আদেশ বাতিল করে কিছু শর্তসাপেক্ষে আপিল ট্রাইব্যুনালে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করে এনবিআর। ২০২৪ সালের মার্চে আপিল বিভাগ মামলাটির মূল বিষয়বস্তুর ওপর হাইকোর্টে নতুন করে শুনানির নির্দেশ দেন।
এরপর ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট হাইকোর্টে পুনঃশুনানি শেষে রিট দুটি খারিজ করা হলেও সংশ্লিষ্ট বেঞ্চের একজন বিচারক অতীতে একই মামলায় সরকারপক্ষের আইনজীবী হিসেবে দায়িত্ব পালন করায় আইনি জটিলতায় আদেশটি প্রত্যাহার করা হয়। পরবর্তীতে প্রধান বিচারপতির নির্দেশনায় বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য নতুন বেঞ্চ গঠিত হয়। সেই বেঞ্চেই চূড়ান্ত শুনানি শেষে আজ রিট দুটি খারিজ ঘোষণা করা হলো।
এস এম সোহাগ ফরাজী