ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে রাষ্ট্রপতির বাণী: সম্প্রীতি ও মানবিকতার ভিত্তিতে ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গড়ার আহ্বান
জাতীয় ডেস্ক / ঢাকা: পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে দেশবাসীসহ বিশ্বের সকল মুসলিম উম্মাহকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ জানিয়েছেন মহামান্য রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
বুধবার (২৬ আগস্ট ২০২৬) উদযাপিতব্য পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট ২০২৬) দেওয়া এক বিশেষ বাণীতে রাষ্ট্রপতি মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর শান্তি, ন্যায়, সহনশীলতা ও মানবিকতার চিরন্তন আদর্শ ধারণ করে হিংসা-বিভেদ পরিহারপূর্বক একটি সাম্য ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণের আহ্বান জানান।
বাণীতে মহানবীর (সা.) জীবনাদর্শ ও দিকনির্দেশনা
বাণীতে মহান রাব্বুল আলামিনের দরবারে শুকরিয়া আদায় করে রাষ্ট্রপতি বলেন, “মানবজাতির হেদায়েত, সামগ্রিক কল্যাণ ও চূড়ান্ত মুক্তির দূত, রহমাতুল্লিল আলামিন হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর অনুপম চরিত্র, আল্লাহর প্রতি অবিচল আনুগত্য এবং ন্যায় ও শান্তির বার্তা সমগ্র মানবজাতির জন্য চিরন্তন আলোকবর্তিকা।”
তিনি উল্লেখ করেন, মহানবী (সা.) তাঁর জীবদ্দশায় সত্য, ক্ষমা, সহমর্মিতা ও মানবিক মর্যাদার অনুপম দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গেছেন। তিনি এতিম, অসহায়, বঞ্চিত মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি নারী, শিশু, প্রতিবেশী ও শ্রমজীবী মানুষের অধিকার রক্ষায় সুস্পষ্ট নির্দেশনা দিয়ে গেছেন। বিশেষ করে ঐতিহাসিক বিদায় হজের ভাষণে তিনি মানবিক মর্যাদা, সামাজিক সাম্য ও পারস্পরিক দায়বদ্ধতার যে সার্বজনীন রূপরেখা প্রদান করেছেন, তা কিয়ামত পর্যন্ত মানবজাতির জন্য পথপ্রদর্শক হয়ে থাকবে।
বিশ্ব শান্তি ও জাতীয় ঐক্যের বার্তা
বর্তমান আন্তর্জাতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি বলেন, “যুদ্ধ, সংঘাত, হিংসা, বৈষম্য ও অসহিষ্ণুতায় বিপর্যস্ত বর্তমান বিশ্বে মহানবী (সা.)-এর শান্তি, সহনশীলতা ও ভালোবাসার শিক্ষা আগের চেয়েও অনেক বেশি প্রাসঙ্গিক। পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবীর এই মহিমান্বিত ক্ষণে আমাদের অঙ্গীকার হোক—হিংসা, বিদ্বেষ, বিভেদ ও অন্যায় পরিহার করে পারস্পরিক শান্তি, সম্প্রীতি, সাম্য ও মানবিকতার ভিত্তিতে একটি শোষণহীন ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ ও রাষ্ট্র গড়ে তোলা।”
বাণীর সমাপ্তিতে রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশসহ সমগ্র বিশ্বের মানুষের সুখ, সমৃদ্ধি, শান্তি ও কল্যাণ কামনা করেন এবং সকলকে মহানবী (সা.)-এর পবিত্র সুন্নাহ ও জীবনাদর্শ ব্যক্তি ও রাষ্ট্রীয় জীবনে অনুসরণের তাওফিক প্রার্থনা করেন।
এস এম সোহাগ ফরাজী।
দৈনিক জীবনযাত্রা