ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর বাণী: মহানবীর আদর্শে মানবিক ও কল্যাণমুখী সমাজ গড়ার আহ্বান
জাতীয় ডেস্ক / ঢাকা: পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে দেশবাসীসহ সমগ্র মুসলিম উম্মাহর প্রতি আন্তরিক মোবারকবাদ ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বুধবার (২৬ আগস্ট ২০২৬) পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উদযাপিত হতে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে এক বিশেষ বাণীতে প্রধানমন্ত্রী মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর শুভ আবির্ভাবকে মানবসভ্যতার ইতিহাসে এক অনন্য ও মহিমান্বিত ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি প্রিয় নবীর প্রদর্শিত সত্য, সাম্য, ভ্রাতৃত্ব ও মানবিকতার শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ হয়ে ব্যক্তি ও সমাজজীবন গঠনের আহ্বান জানান।
বাণীতে মহানবীর (সা.) জীবনাদর্শের তাৎপর্য
মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের দরবারে শুকরিয়া জ্ঞাপন করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “মানবজাতির হেদায়াত ও কল্যাণের জন্য প্রেরিত রহমাতুল্লিল আলামিন হজরত মুহাম্মদ (সা.) মানুষকে তাওহিদের পথে ডাকার পাশাপাশি সত্য, ইনসাফ ও শান্তির শিক্ষা দিয়েছেন। তাঁর পবিত্র জীবন ও কর্ম সমগ্র মানবজাতির জন্য চিরন্তন পথনির্দেশ।”
পবিত্র কুরআনের সূরা আল-আহযাবের ২১ নম্বর আয়াতের (“নিশ্চয়ই তোমাদের জন্য আল্লাহর রাসূলের মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ”) উদ্ধৃতি দিয়ে প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, মহানবীর জীবন ছিল কুরআনের শিক্ষার জীবন্ত প্রতিফলন। সত্যবাদিতা, আমানতদারি, ন্যায়বিচার, ক্ষমাশীলতা ও পরোপকারের যে দৃষ্টান্ত তিনি রেখে গেছেন, তা মানুষের প্রতি ভালোবাসা ও মহানুভবতার অপূর্ব শিক্ষা দেয়। তিনি জাতি-বর্ণের বিভেদ ভুলে মানুষের মর্যাদা প্রতিষ্ঠা এবং এতিম, অসহায়, নারী, শিশু ও মেহনতি মানুষের অধিকার সুরক্ষায় সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা দিয়েছেন।
বর্তমান প্রেক্ষাপট ও তরুণ প্রজন্মের প্রতি দিকনির্দেশনা
বর্তমান বিশ্বের নানামুখী সংকট, যুদ্ধ ও অসহিষ্ণুতার চিত্র তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “যুদ্ধ ও নৈতিক অবক্ষয়ে জর্জরিত পৃথিবীতে মহানবী (সা.)-এর মানবিকতা ও শান্তির শিক্ষা অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। ব্যক্তি, পরিবার ও রাষ্ট্রীয় জীবনে তাঁর আদর্শ বাস্তবায়নের মাধ্যমেই একটি ন্যায়ভিত্তিক ও কল্যাণমুখী সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।”
দেশের ভবিষ্যৎ তরুণ প্রজন্ম প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তরুণদের মাদক, সন্ত্রাস ও অপরাধ থেকে দূরে রেখে জ্ঞান, সৃজনশীলতা, দেশপ্রেম ও নৈতিকতায় গড়ে তুলতে মহানবীর জীবনই সবচেয়ে বড় প্রেরণা। পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সম্প্রীতি ও সহনশীলতার চর্চা বাড়িয়ে একটি শান্তিপূর্ণ ও মানবিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
বাণীর সমাপ্তিতে প্রধানমন্ত্রী বিশ্বজুড়ে শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করে সবাইকে প্রিয় নবীর সুন্নাহ অনুসরণের তাওফিক প্রার্থনা করেন।