মেহেরপুরে গভীর রাতে প্রেমিকার বাড়িতে প্রেমিকের নৃশংস হামলা: তরুণীর হাতের কবজি বিচ্ছিন্ন, বাঁচাতে গিয়ে বাবা-মাও রক্তাক্ত
শাহ তোফাজ্জুল হোসেন ভান্ডারী, স্টাফ রিপোর্টার: মেহেরপুর জেলা শহরে গভীর রাতে এক তরুণীর বাড়িতে ঢুকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে বর্বরোচিত হামলা চালিয়েছে তাঁর প্রেমিক। হামলায় ওই তরুণীর ডান হাতের কবজি শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এ সময় মেয়েকে বাঁচাতে গিয়ে ধারালো অস্ত্রের কোপে রক্তাক্ত ও গুরুতর আহত হয়েছেন তাঁর বাবা এবং মা-ও।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট ২০২৬) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে শহরের লর্ড মার্কেট এলাকায় ইলেকট্রনিক্স ব্যবসায়ী সেলিম হোসেনের বাড়িতে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
অভিযুক্তের পরিচয় ও ঘটনার বিবরণ
অভিযুক্ত যুবকের নাম শাওন। তিনি শহরের মল্লিকপাড়া এলাকার হোটেল ব্যবসায়ী আবু তালেবের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, শাওন ও স্মৃতি আক্তারের মধ্যে দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। সাম্প্রতিক সময়ে তাঁদের সম্পর্কের মধ্যে কোনো টানাপোড়েন বা বিরোধ তৈরি হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
মঙ্গলবার দিবাগত রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে শাওন ধারালো অস্ত্র নিয়ে প্রাচীর টপকে সেলিম হোসেনের বাড়িতে প্রবেশ করেন। ঘরে ঢুকেই তিনি ঘুমন্ত স্মৃতি আক্তারের ওপর অতর্কিত হামলা চালান এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে স্মৃতির ডান হাতের কবজির ওপর থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
তরুণীর আর্তচিৎকার শুনে পাশের কক্ষ থেকে তাঁর বাবা সেলিম হোসেন ও মা রেবেকা খাতুন ছুটে এলে দুর্বৃত্ত শাওন তাঁদেরও এলোপাতাড়ি কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।
হাসপাতালে ভর্তি ও ঢাকায় প্রেরণ
চিৎকার শুনে আশপাশের প্রতিবেশীরা দ্রুত এগিয়ে এসে রক্তাক্ত অবস্থায় তিনজনকে উদ্ধার করে মেহেরপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে তাঁদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হলেও শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসকরা উন্নত চিকিৎসার জন্য রাতেই তাঁদের জরুরিভিত্তিতে ঢাকায় রেফার করেন।
পুলিশি তৎপরতা ও তদন্ত
খবর পেয়ে মেহেরপুর সদর থানা পুলিশের একাধিক টিম তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং অভিযুক্ত যুবককে গ্রেফতার করতে সাঁড়াশি অভিযান শুরু করেছে।
মেহেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবির ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, হামলার মূল অভিযুক্ত শাওনকে গ্রেফতারে পুলিশের একাধিক দল মাঠে কাজ করছে। পূর্ববিরোধ বা হামলার সঠিক কারণ উদঘাটনে পরিবার ও সংশ্লিষ্টদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
এস এম সোহাগ ফরাজী
দৈনিক জীবনযাত্রা