রংপুরের হারাগাছে পরকীয়া প্রেমের জেরে যুবক আবু বক্কর সিদ্দীক হত্যা: পিবিআই কর্তৃক ২ খুনি গ্রেফতার ও চাঞ্চল্যকর তথ্য উদ্ঘাটন
স্টাফ রিপোর্টার, রংপুর: রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার হারাগাছ পৌর শহরের একটি নির্জন সড়কে পরকীয়া প্রেমের জেরে আবু বক্কর সিদ্দীক (৩৫) নামের এক যুবককে গলা কেটে ও কুপিয়ে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় দুই যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট ২০২৬) গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া শেষে রংপুর আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন:
১. সাজুল মিয়া সাজু (২৮), পিতা: নুর ইসলাম, সাং- কালমাটি মিলন বাজার, লালমনিরহাট সদর।
২. হাফিজুল ইসলাম (২০), পিতা: আমিনুল ইসলাম, সাং- মিলন বাজার আশিরভিটা, লালমনিরহাট সদর।
হত্যাকাণ্ডের নেপথ্য ও ঘটনার বিবরণ
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা রংপুর পিবিআই-এর উপ-পরিদর্শক (এসআই) নুরে আলম জানান, গত রোববার রাতে কাউনিয়া উপজেলার চরচতুরা গ্রামের শেষ সীমানায় হারাগাছ ইউনিয়নের পল্লীমারী হকের বাজার সংলগ্ন এলাকা থেকে আবু বক্কর সিদ্দীকের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করে হারাগাছ থানা পুলিশ। একই সাথে ঘটনাস্থল থেকে একটি রক্তমাখা চাইনিজ কুড়াল উদ্ধার করা হয়।
ঘটনার পরপরই পিবিআইয়ের ক্রাইমসিন টিম ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় মূল অভিযুক্ত সাজুল মিয়া সাজুকে আটক করা হয়। পরবর্তীতে তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাঁর সহযোগী বন্ধু হাফিজুল ইসলামকেও গ্রেফতার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে দুজনই সিদ্দীকুকে গলা কেটে ও ঘাড়ে-মুখে উপর্যুপরি কুপিয়ে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন।
পুলিশ জানায়, নিহত সিদ্দীকের সঙ্গে প্রধান অভিযুক্ত সাজুর স্ত্রীর পরকীয়া প্রেমের সম্পর্ক ছিল। সাজুর বাধা উপেক্ষা করে সিদ্দীক তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ অব্যাহত রাখেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে সাজু রোববার রাতে সিদ্দীককে মিলন বাজারে ডেকে পাঠান। পরে তাঁকে চরচতুরা গ্রামের একটি নির্জন সড়কে নিয়ে গিয়ে সাজু ও তাঁর বন্ধু হাফিজুল মিলে চাইনিজ কুড়াল দিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করেন।
সিদ্দীককে কোপানোর সময় হাতাহাতির একপর্যায়ে কুড়ালের কোপে মূল অভিযুক্ত সাজুর নিজের বাম পা-ও কেটে রক্তাক্ত হয়। হত্যাকাণ্ডের পর তাঁরা পাশের একটি পুকুরে রক্তমাখা কুড়াল ধুয়ে বালুর নিচে পুঁতে রাখেন এবং সাজুর বাড়িতে গিয়ে ইয়াবা সেবন করেন। পরে পুলিশ পুকুরপাড়ের রক্তের চিহ্ন অনুসরণ করে হত্যায় ব্যবহৃত চাইনিজ কুড়ালটি উদ্ধার করে।
আইনি পদক্ষেপ ও পিবিআইয়ের বক্তব্য
এ ঘটনায় নিহত আবু বক্কর সিদ্দীকের বড় ভাই তাজুল ইসলাম বাদী হয়ে রোববার রাতেই হারাগাছ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলাটির তদন্তভার পিবিআইয়ের ওপর ন্যস্ত করা হয়। হত্যাকাণ্ডে প্রাথমিক সম্পৃক্ততা না থাকায় আটক সাজুর স্ত্রীকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে এবং সাজু ও হাফিজুলকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
পিবিআই রংপুরের পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান জানান, ব্যক্তিগত বিরোধ ও পরকীয়ার জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। আসামিরা আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়ার প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। মামলার অন্যান্য দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এস এম সোহাগ ফরাজী।
দৈনিক জীবনযাত্রা