• শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৫৯ পূর্বাহ্ন
  • [gtranslate]
শিরোনামঃ
বাঁশঝাড়ের ভেতর থেকে বীর মুক্তিযোদ্ধার ম-র-দে-হ উদ্ধার জাপানে চার দিনের সফল সরকারি সফর শেষে দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান: ‘সংগ্রাম শুরু করো মুক্তির, দিন নেই তর্ক ও যুক্তির’: রাজধানীতে বর্ণাঢ্য আয়োজনে উদীচীর ৫৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত চট্টগ্রামের বন্দর থানা এলাকা থেকে স্কুলছাত্রী কৃষ্ণা দে নিখোঁজ, সন্ধান চায় পরিবার ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনে বিপুল ভোটে বিজয়ী বিএনপির মির্জা ফয়সল আমীন এবার ভোট কারচুপির অভিযোগে বিক্ষোভের ডাক জামায়াতের ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনে প্রমাণিত হলো জামায়াতের জান্নাতের টিকিট আর কোথাও কাজে দেবে না’: রাশেদ খান প্রবাসীর স্ত্রীর সাথে মাদ্রাসা শিক্ষকের অনৈতিক সম্পর্কের জেরে আটক লালমনিরহাটে বিচারক সংকট ও আদালত ভবনের অভাবে বাড়ছে মামলার জট আওয়ামী লীগ সন্ত্রাসী সংগঠন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের পর্যবেক্ষণ

আওয়ামী লীগ সন্ত্রাসী সংগঠন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের পর্যবেক্ষণ

Reporter Name / ১৯ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬

চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে গণহত্যার দায়ে আওয়ামী লীগ ও ১৪ দল ‘অপরাধমূলক সংগঠন’: হানিফের ফাঁসি, তিন নেতার আমৃত্যু কারাদণ্ড

আদালত প্রতিবেদক:

২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় দেশব্যাপী নিরস্ত্র শিক্ষার্থী ও সাধারণ বেসামরিক নাগরিকদের ওপর ব্যাপক ও সুপরিকল্পিত হামলা চালানোর অপরাধে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ এবং তাদের মিত্র ১৪ দলীয় জোটকে ‘অপরাধমূলক সংগঠন’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। একই সঙ্গে কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যার দায়ে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফকে মৃত্যুদণ্ড এবং দলের আরও তিন শীর্ষ নেতাকে আমৃত্যু কারাদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর ২০২৬) বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এই ঐতিহাসিক ও যুগান্তকারী রায় ঘোষণা করেন। তিন সদস্যের এই বিচারিক বেঞ্চের অন্য দুই সদস্য হলেন—বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

দণ্ডপ্রাপ্তদের সাজার বিবরণ ও সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের নির্দেশ:

ট্রাইব্যুনালের রায়ে প্রধান আসামি মাহবুব উল আলম হানিফকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আদেশ দেওয়া হয়েছে।

একই মামলার অপর তিন আসামি—কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. সদর উদ্দিন খান, জেলা সাধারণ সম্পাদক মো. আজগর আলী এবং কুষ্টিয়া শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. আতাউর রহমান আতাকে আমৃত্যু সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। রায়ের সময় দণ্ডপ্রাপ্ত চার আসামির সবাই পলাতক ছিলেন।

দণ্ডের পাশাপাশি ট্রাইব্যুনাল দণ্ডিত সকল আসামির স্থাবর সম্পত্তির ৫০ শতাংশ (অর্ধেক) রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন। বাজেয়াপ্তকৃত এই সম্পত্তি ‘জুলাই ফাউন্ডেশন’ বা অন্য কোনো বৈধ রাষ্ট্রীয় মাধ্যমের মাধ্যমে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহত ব্যক্তিদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের জন্য হস্তান্তরের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

আওয়ামী লীগ ও ১৪ দল ‘অপরাধমূলক সংগঠন’:

রায়ের পঞ্চম অভিযোগে ‘অভিন্ন অভিপ্রায় ও অপরাধমূলক সংগঠন’ (Joint Criminal Enterprise) প্রসঙ্গে ট্রাইব্যুনালের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সাধারণ শিক্ষার্থী ও নিরীহ বেসামরিক নাগরিকদের দমনের লক্ষ্যে একটি সুনির্দিষ্ট ‘অভিন্ন নিপীড়ন নীতি’ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে পরিকল্পিত ও পদ্ধতিগত আক্রমণ চালানো হয়েছিল।

আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ এবং তাদের রাজনৈতিক মিত্র ১৪ দলীয় জোট দেশব্যাপী সম্মিলিতভাবে এই ব্যাপক ও পদ্ধতিগত মানবতাবিরোধী আক্রমণ পরিচালনা করেছে। রায়ে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয় যে, মাহবুব উল আলম হানিফসহ অভিযুক্তরা এই দলীয় কাঠামোর অংশ হিসেবে জেনেশুনে ও সুপরিকল্পিতভাবে নিপীড়নের নীতি বাস্তবায়নে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। যা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন, ১৯৭৩-এর ৩(২)(এ) ও ৪(১) ধারার অধীনে শাস্তিযোগ্য মানবতাবিরোধী অপরাধ।

অভিযোগ প্রমাণ ও প্রসিকিউশনের বক্তব্য:

আদালতে আসামিদের বিরুদ্ধে যৌথ ও পৃথকভাবে হত্যা, হত্যাচেষ্টা, শারীরিক নির্যাতন, প্ররোচনা, ষড়যন্ত্র, উসকানি এবং বেসামরিক জনগণের ওপর পরিকল্পিত আক্রমণে প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণের অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। এসব অপরাধ আইনের ৩(২)(এ), ৩(২)(জি), ৩(২)(এইচ), ৪(১), ৪(২) ও ৪(৩) ধারার অধীনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য করে ট্রাইব্যুনাল আসামিদের পৃথকভাবে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডও প্রদান করেন।

রায়ের পর সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম বলেন, “মামলার পঞ্চম অভিযোগে আমরা আন্তর্জাতিক অপরাধ আইনের ‘জয়েন্ট ক্রিমিনাল এন্টারপ্রাইজ’ বা যৌথ অপরাধমূলক সিন্ডিকেটের বিষয়টি আদালতের সামনে তুলে ধরেছিলাম। আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের সময়ই ট্রাইব্যুনাল উল্লেখ করেছিল যে, দেশজুড়ে নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার ওপর এই পদ্ধতিগত আক্রমণ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক নীতি ও পরিকল্পনারই অংশ ছিল।”

তিনি আরও যোগ করেন, “আদালতে আমাদের উপস্থাপিত তথ্য-প্রমাণে তা সম্পূর্ণরূপে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ফলে রায়ের ঐতিহাসিক পর্যবেক্ষণে ট্রাইব্যুনাল আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ এবং তাদের রাজনৈতিক দোসর ১৪ দলীয় জোটকে সরাসরি ‘অপরাধমূলক সংগঠন’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে।”

 

এস এম সোহাগ ফরাজী

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bdit.com.bd