‘ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনে প্রমাণিত হলো জামায়াতের জান্নাতের টিকিট আর কোথাও কাজে দেবে না’: মির্জা ফয়সল আমীনকে অভিনন্দন জানিয়ে রাশেদ খান
রাজনৈতিক প্রতিবেদক:
ঠাকুরগাঁও-১ সংসদীয় আসনের উপনির্বাচনের মধ্য দিয়ে প্রমাণিত হয়েছে যে ধর্মকে পুঁজি করে জামায়াতের দেওয়া তথাকথিত ‘জান্নাতের টিকিট’ আর কোথাও কাজে দেবে না বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান। নির্বাচনে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য মির্জা ফয়সল আমীনকে অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড, নৈতিক অবস্থান ও ধর্মীয় ব্যাখ্যা নিয়ে তীব্র আক্রমণাত্মক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।
উপনির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর দেওয়া এক আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়ায় তিনি এসব কথা তুলে ধরেন।
মির্জা ফয়সল আমীনকে অভিনন্দন ও জামায়াতকে তোপ:
নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যকে শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান বলেন, “ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে প্রমাণিত হলো—জামায়াতের জান্নাতের টিকিট আর কোথাও কাজে দিবে না। অভিনন্দন এমপি মির্জা ফয়সল আমীন!”
জামায়াতের নেতাকর্মীদের আচার-আচরণ ও নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, “জনগণ বুঝে গেছে যে, জামায়াতের মধ্যে ধর্মীয় লেবাসে অসংখ্য গাজী নজরুল ইসলাম রয়েছে। প্রতিনিয়ত যে দলের অসংখ্য নেতার পরকীয়ার সংবাদ গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়, যে দল রোজা ও পূজাকে মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ মনে করে এবং যে দল মনে করে ‘আগে ছিলো হিন্দু মানে নৌকা, এবার হবে হিন্দু মানে দাঁড়িপাল্লা’—তাদের নৈতিক অবস্থান কোথায়?”
তিনি আরও যোগ করেন, “যে দলের আইনজীবী শহীদ আবরার ফাহাদের খুনিদের আইনজীবী হয় এবং যে দল সকাল বেলা ভারতের বিরুদ্ধে বলে রাতের বেলা ভারতীয় গোয়েন্দা কর্মকর্তার সাথে বৈঠক করে; যে দল তার নিজ দলের নেতাকর্মীদেরই জান্নাতের পথ দেখাতে হিমশিম খাচ্ছে, তারা কীভাবে জনগণকে হেদায়েতের পথ দেখাবে?”
খতিবের বক্তব্য ও শরিয়া আইন প্রসঙ্গ:
ইসলামের দৃষ্টিতে দলটির অবস্থান নিয়ে সমালোচনা করে রাশেদ খান উল্লেখ করেন, “ইসলাম নিয়ে জামায়াতের এসব কর্মকাণ্ড দেখে একপ্রকার অতিষ্ঠ হয়ে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব মুফতি জনাব আব্দুল মালেক জামায়াত সম্পর্কে মন্তব্য করেছেন যে, যারা জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করবে তারা পথভ্রষ্ট। সুতরাং পথভ্রষ্টদের দেখানো পথে হেঁটে মানুষ আর বিভ্রান্তির দিকে পা বাড়াবে না।”
তিনি আরও বলেন, “মুফতি জনাব আব্দুল মালেকের বক্তব্যের বিরুদ্ধে ওয়াজের মাঠে আমির হামজা আর তারেক মনোয়ারের মতো বক্তাদের নামিয়ে হয়তো নিজ দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে সাময়িক উত্তেজনা সৃষ্টি করা যাবে, কিন্তু সাধারণ মানুষের কাছে জামায়াতকে আর সত্যিকারের ইসলামিক দল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা যাবে না। যারা বিদেশিদের সাথে বৈঠকে গিয়ে বলে—‘কোথায় বলেছি ক্ষমতায় গেলে শরিয়া আইন কায়েম করব?’—সেই দলকে তো আর ইসলামিক দল বলা যায় না।”
ঠাকুরগাঁও-১ আসনের এই উপনির্বাচনের রায় রাজনৈতিক সচেতনতার প্রতিফলন এবং নির্বাচনী রাজনীতিতে ধর্মকে ব্যবহারের বিরুদ্ধে জনগণের স্পষ্ট বার্তা বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এস এম সোহাগ ফরাজী