কালীগঞ্জে প্রবাসীর স্ত্রীর সাথে মাদ্রাসা শিক্ষকের অনৈতিক সম্পর্ক: রেস্তোরাঁয় বিয়ে নিয়ে বিরোধের পর দুজনকে পুলিশে দিল জনতা
স্টাফ রিপোর্টার:
স্বামীর প্রবাসে থাকার সুযোগে এক মাদ্রাসা শিক্ষকের সাথে অনৈতিক সম্পর্কে জড়ানো এবং পরবর্তীতে বিয়ের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের বিরোধকে কেন্দ্র করে জনরোষের মুখে পড়েছেন এক নারী ও তাঁর প্রেমিক। রেস্তোরাঁয় বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে স্থানীয় জনতার হাতে আটক হয়ে শেষ পর্যন্ত দুজনেরই ঠাঁই হয়েছে থানা হেফাজতে।
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড এলাকার একটি খাবারের হোটেলে এ চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটে। এ নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।
আটককৃতরা হলেন—মাগুরা জেলার মোহাম্মদপুর উপজেলার বাসিন্দা ও একটি মাদ্রাসার শিক্ষক হাবিবুল্লাহ এবং ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার সেজিয়া নলবিলপাড়া গ্রামের বাসিন্দা রূপালী খাতুন।
যোগাযোগ থেকে ঘনিষ্ঠতা ও দীর্ঘদিনের সম্পর্ক:
আটককৃতদের প্রাথমিক বক্তব্য ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রূপালী খাতুনের স্বামী দীর্ঘদিন ধরে বিদেশে কর্মরত রয়েছেন। স্বামীর অনুপস্থিতির সুযোগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং মুঠোফোনে মাদ্রাসা শিক্ষক হাবিবুল্লাহর সাথে তাঁর পরিচয় ও নিয়মিত যোগাযোগ গড়ে ওঠে। ধীরে ধীরে সেই পরিচয় রূপ নেয় প্রেমের সম্পর্কে।
গত প্রায় দুই বছর ধরে তাঁরা গোপনে বিভিন্ন স্থানে একাধিকবার দেখাসাক্ষাৎ করেন এবং তাঁদের মধ্যে অনৈতিক মেলামেশা চলে আসছিল বলে জানা যায়।
রেস্তোরাঁয় বিয়ের চাপ ও তীব্র বিরোধ:
পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী গতকাল প্রেমিক হাবিবুল্লাহ ও রূপালী খাতুন নিজ নিজ এলাকা থেকে এসে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড এলাকার একটি খাবারের হোটেলে মিলিত হন। সেখানে খাবারের একপর্যায়ে রূপালী খাতুন সম্পর্ককে সামাজিক স্বীকৃতি দিতে শিক্ষক হাবিবুল্লাহকে দ্রুত বিয়ে করার চাপ দেন।
কিন্তু বিয়ের কথা উঠতেই বেঁকে বসেন হাবিবুল্লাহ। তিনি কোনোভাবেই রূপালীকে বিয়ে করতে রাজি নন বলে স্পষ্ট জানিয়ে দেন। এ নিয়ে হোটেলের ভেতরেই দুজনের মধ্যে চরম উত্তেজনা, কথাকাটাকাটি ও উচ্চবাচ্য শুরু হয়।
জনতার হাতে আটক ও পুলিশে সোপর্দ:
হোটেলের ভেতরে দুজনের অস্বাভাবিক আচরণ ও উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় দেখে আশপাশের লোকজনের সন্দেহ হয়। একপর্যায়ে উপস্থিত স্থানীয় জনতা তাঁদের ঘিরে ধরে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন। জনতার প্রশ্নের মুখে উভয়েই প্রবাসে থাকা স্বামী, অনৈতিক সম্পর্ক এবং বিয়ের কথা নিয়ে বিরোধের পুরো বিষয়টি স্বীকার করতে বাধ্য হন।
ঘটনাটি প্রকাশ পাওয়ার পর স্থানীয় লোকজন ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন এবং অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে তাঁদের হোটেলের ভেতরেই আটকে রেখে দ্রুত স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনকে অবহিত করেন। খবর পেয়ে কালীগঞ্জ থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে জনতা তাঁদের পুলিশের হাতে সোপর্দ করে।
এ ঘটনায় প্রবাসীর স্ত্রীর এমন অনৈতিক আচরণ এবং একজন ধর্মীয় শিক্ষকের দায়িত্বহীন কর্মকাণ্ড ও প্রতারণায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আটককৃত দুজনকে পুলিশ হেফাজতে রেখে ঘটনার প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। উভয়ের পরিবারের অভিভাবকদের বিষয়টি অবগত করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
দৈনিক জীবনযাত্রা