কক্সবাজারের টুপটুপ রিসোর্টে ভয়াবহ আগুন: স্কুলশিক্ষিকা মুক্তাসহ নিহত ১০, বুকফাটা আর্তনাদ স্বামীর
কক্সবাজার প্রতিনিধি:
ছোটবেলার বান্ধবীদের সঙ্গে সৈকতশহর কক্সবাজারে আনন্দভ্রমণে গিয়েছিলেন স্কুলশিক্ষিকা নাসরিন আক্তার মুক্তা। রোববার সকালে সাভারের নিজ বাসায় ফিরে যাওয়ার কথা ছিল তাঁর। কিন্তু তার আগেই শনিবার ভোরে মেরিন ড্রাইভ সংলগ্ন কাঠের তৈরি একটি রিসোর্টে ছড়িয়ে পড়া লেলিহান আগুনে অঙ্গার হয়ে জীবনাবসান ঘটল তাঁর। একই ঘটনায় এখন পর্যন্ত মোট ১০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
শনিবার (১৭ অক্টোবর ২০২৬) সকাল ৭টার দিকে কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার ইনানী সংলগ্ন মেরিন ড্রাইভ সড়কের পাটোয়ারটেক সৈকত এলাকায় অবস্থিত ‘টুপটুপ রিসোর্ট অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট’-এ এ হৃদয়বিদারক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
নিহত নাসরিন আক্তার মুক্তা সাভার-আশুলিয়ার ‘স্বপ্নবিলাস নিরিবিলি বিদ্যালয়’-এর একজন সহকারী শিক্ষিকা ছিলেন। তিনি মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার মোস্তফা কামালের কন্যা। তাঁর স্বামী দেওয়ান ফয়সাল ঢাকা জেলা ছাত্রদলের সহসভাপতি।
স্ত্রীর মৃত্যুর খবর পেয়ে শোকে ভেঙে পড়েন স্বামী দেওয়ান ফয়সাল। আহাজারি করতে করতে তিনি বলেন, “একসঙ্গে তিন বান্ধবী মিলে গত বৃহস্পতিবার কক্সবাজারে বেড়াতে গিয়েছিল। রোববার সাভারে নিজ ঠিকানায় ফিরে আসার কথা ছিল সবার। কিন্তু আজ (শনিবার) সকালে নাসরিনের দুই বান্ধবী কোনো কাজে রিসোর্ট থেকে বাইরে বের হয়েছিল, আর মুক্তা তখন রিসোর্টের রুমের ভেতরেই অবস্থান করছিল। আগুন লাগার পর ও আর বের হতে পারেনি। সাভারে ফিরে আসার আগেই ও না ফেরার দেশে চলে গেল।”
ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্র জানায়, সকাল সাড়ে ৭টার দিকে মেরিন ড্রাইভ সড়ক-সংলগ্ন সৈকত তীরের পুরোপুরি কাঠের তৈরি ওই ইকোরিসোর্টটিতে হঠাৎ আগুনের সূত্রপাত ঘটে। কাঠ ও বাঁশের অবকাঠামো হওয়ায় মুহূর্তের মধ্যে আগুনের শিখা পুরো কটেজ ও রেস্টুরেন্টে ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একাধিক ইউনিট গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। সেখান থেকে একে একে নারীসহ ১০ জনের পুড়ে যাওয়া মরদেহ উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকর্মীরা।
উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আতিকুর রহমান মজুমদার জানান, “ঠিক কী কারণে এই বিধ্বংসী আগুনের সূত্রপাত হয়েছে—বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট নাকি রান্নাঘরের গ্যাস সিলিন্ডার লিকেজ—তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলোর ময়নাতদন্ত ও শতভাগ সঠিক পরিচয় শনাক্ত করতে ডিএনএ প্রোফাইলিংসহ প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে পুলিশ কাজ করছে।”
ছুটির দিনে এমন মর্মান্তিক ট্র্যাজেডিতে সৈকত তীরবর্তী পর্যটন পল্লীতে শোক ও আতঙ্কের ছায়া নেমে এসেছে। ঘটনার পর কক্সবাজার জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
এস এম সোহাগ ফরাজী