জাতিসংঘে সফল সফর ও বিশ্বমঞ্চে ঐতিহাসিক ভাষণ শেষে দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
কূটনৈতিক প্রতিবেদক:
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (UNGA) ৮১তম অধিবেশনে সফলভাবে অংশগ্রহণ শেষে সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানকে সঙ্গে নিয়ে দেশে ফিরেছেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬) সকাল ৮টা ২০ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সফরসঙ্গীদের বহনকারী এমিরেটস এয়ারলাইন্সের নিয়মিত বাণিজ্যিক ফ্লাইটটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিরাপদে অবতরণ করে। বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও উষ্ণ আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনা জানান বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির প্রভাবশালী সদস্য এবং সরকারের পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান, এমপি।
জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ অধিবেশনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করতে গত ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কের উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সরকারপ্রধান হিসেবে বিশ্বমঞ্চের এই শীর্ষ অধিবেশনে এটিই ছিল তাঁর প্রথম ঐতিহাসিক অংশগ্রহণ। সফরের তৃতীয় দিন গত বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্ক পর্বে বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষের আকাঙ্ক্ষা ও বৈশ্বিক শান্তির বার্তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মঞ্চে মাতৃভাষা বাংলায় ভাষণ দেন প্রধানমন্ত্রী।
ঐতিহাসিক সেই ভাষণে প্রধানমন্ত্রী বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠা, বহুপাক্ষিক কূটনৈতিক কাঠামো রক্ষা, মিয়ানমারের বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা সংকট নিরসন, ফিলিস্তিনের ন্যায্য অধিকার, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত সংকট মোকাবিলায় বৈশ্বিক ন্যায়বিচার, সমতাভিত্তিক অর্থনৈতিক অগ্রগতি, নারীর সর্বজনীন ক্ষমতায়ন, মানসম্মত শিক্ষা, স্বাস্থ্য ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং তারুণ্যের সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর ওপর বাংলাদেশের স্পষ্ট রূপরেখা তুলে ধরেন।
জাতিসংঘের ভাষণে প্রধানমন্ত্রী দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে ঘোষণা করেন, দীর্ঘ দেড় দশকের কর্তৃত্ববাদী ও ফ্যাসিবাদী শাসন-শোষণের অবসান ঘটিয়ে বাংলাদেশ আজ আবারও পূর্ণাঙ্গ গণতান্ত্রিক ধারায় প্রত্যাবর্তন করেছে। দীর্ঘ দুঃশাসনে ক্ষতবিক্ষত রাষ্ট্র কাঠামোকে পুনর্গঠন ও মেরামত করতে তাঁর সরকার ‘Recovery, Restoration এবং Reconstruction’—এই ‘3-R’ কৌশল অবলম্বন করে দেশ পরিচালনা করছে। তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আশ্বস্ত করে বলেন, বাংলাদেশ আজ অপার সম্ভাবনা ও ইতিবাচক পরিবর্তনের এক নতুন যুগে প্রবেশ করেছে।
নিউইয়র্কে অবস্থানকালে জাতিসংঘ অধিবেশনের সাইডলাইনে বিশ্বনেতাদের সঙ্গে অত্যন্ত ব্যস্ত কূটনৈতিক সময় পার করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি কুয়েতের ক্রাউন প্রিন্স, থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী, সংযুক্ত আরব আমিরাতের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ফলপ্রসূ আনুষ্ঠানিক দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন। এসব বৈঠকে তিনি বাংলাদেশের স্বার্থরক্ষা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগের নতুন দিগন্ত উন্মোচন, জনশক্তি রপ্তানি সম্প্রসারণ এবং ভূরাজনৈতিক উন্নয়ন সহযোগিতার ক্ষেত্র প্রস্তুত করেন।
এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রী জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি রোধ, রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই আন্তর্জাতিক সমাধান এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এসডিজি) অংশ হিসেবে মাতৃ ও নবজাতকের স্বাস্থ্যসেবা বিষয়ক একাধিক উচ্চপর্যায়ের প্লেনারি সেশনে অংশ নিয়ে বৈশ্বিক সম্প্রদায়ের কার্যকর পদক্ষেপ দাবি করেন।
এস এম সোহাগ ফরাজী