ডেঙ্গুতে প্রাণ গেল তরুণ চিকিৎসক ডা. আঁচল রায়ের: চিকিৎসকাঙ্গনে নেমে এসেছে শোকের ছায়া
নিজস্ব প্রতিবেদক:
মহামারি রূপ নেওয়া মশাবাহিত রোগ ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে এবার প্রাণ হারালেন এক তরুণ প্রতিশ্রুতিশীল চিকিৎসক। রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬) সকাল ৮টার দিকে শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন ডা. আঁচল রায়।
৪২তম বিসিএস (স্বাস্থ্য) ক্যাডারের এই কর্মকর্তা মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিউরোলজি বিভাগে কর্মরত ছিলেন। সম্প্রতি প্রশাসনিক প্রয়োজনে তাঁকে একই হাসপাতালের রেসপিরেটরি মেডিসিন বিভাগে সংযুক্ত করা হয়েছিল।
হাসপাতাল ও সহকর্মীদের সূত্রে জানা গেছে, সরকারি দায়িত্ব পালনকালে নিয়মিত রোগীদের পাশাপাশি তিনি মাঝে মাঝে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদেরও নিবিড় চিকিৎসা সেবা দিতেন। এমনকি হাসপাতালের রস্টার অনুযায়ী খুব শীঘ্রই তাঁর সরাসরি ডেঙ্গু ওয়ার্ড ও ইউনিটে দায়িত্বভার গ্রহণের কথা ছিল। কিন্তু রোগীদের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করার আগেই ঘাতক ডেঙ্গু তাঁর জীবন কেড়ে নিল।
মেধাবী এই চিকিৎসকের অকাল প্রয়াণে তাঁর ব্যাচভিত্তিক সহকর্মী, মুগদা মেডিকেল পরিবারের সদস্যসহ সমগ্র চিকিৎসক সমাজের মাঝে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সহকর্মী ও সিনিয়র চিকিৎসকেরা তাঁর নিষ্ঠাবান কর্মজীবন ও মেধার স্মৃতিচারণ করে গভীর শোক ও পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছেন।
ডা. আঁচল রায়ের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন। এক শোকবার্তায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “ডা. আঁচল রায়ের এমন অকাল ও আকস্মিক মৃত্যুতে স্বাস্থ্য পরিবার একজন অত্যন্ত নিবেদিতপ্রাণ, মেধাবী ও মানবিক চিকিৎসককে হারাল। তাঁর এই প্রয়াণে আমি গভীরভাবে শোকাহত।” মন্ত্রী মরহুমার বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজন, স্বজন ও সহকর্মীদের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানান।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ডা. আঁচল রায় চিকিৎসা শাস্ত্রে উচ্চশিক্ষার পথে অত্যন্ত কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখছিলেন। সম্প্রতি তিনি বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ানস অ্যান্ড সার্জনস (বিসিপিএস)-এর অধীনে ইন্টারনাল মেডিসিনে এফসিপিএসের মিড-টার্ম পরীক্ষায় সফলভাবে উত্তীর্ণ হয়েছিলেন। এর পাশাপাশি যুক্তরাজ্যের সম্মানজনক রয়্যাল কলেজের এমআরসিপি (MRCP) পরীক্ষার প্রথম পর্বও (পার্ট-ওয়ান) সম্পন্ন করেছিলেন তিনি। তাঁর স্বামী বিপ্লব চন্দ্র দাস সরকারের জাতীয় জনসংখ্যা গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে (নিপোর্ট) কর্মরত রয়েছেন।
স্ত্রীর অসুস্থতা ও মৃত্যুর বিষয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে বিপ্লব চন্দ্র দাস জানান, ডেঙ্গু শনাক্ত হওয়ার পর প্রাথমিক পর্যায়ে চার দিন তিনি চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী বাসায় থেকেই ওষুধ ও তরল খাবার গ্রহণ করছিলেন। কিন্তু পঞ্চম দিনে হঠাৎ করেই তাঁর শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি ঘটে এবং রক্তে প্লাটিলেটের পরিমাণ আশঙ্কাজনক হারে কমতে শুরু করে। দ্রুত তাঁকে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাৎক্ষণিকভাবে হাই ডিপেন্ডেন্সি ইউনিটে (এইচডিইউ) ভর্তি করেন। পরবর্তীতে রক্তচাপ কমে যাওয়া ও জটিলতা বৃদ্ধি পেলে তাঁকে লাইফ সাপোর্টে আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ চেষ্টা সত্ত্বেও রবিবার সকালে তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।
এস এম সোহাগ ফরাজী