বাহুবলে অটোরিকশা ও ইজিবাইক স্ট্যান্ড দখল নিয়ে দুপক্ষের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ: আহত অন্তত ২৫
স্টাফ রিপোর্টার, শাহ তোফাজ্জুল হোসেন ভান্ডারী:
হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলায় সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও ব্যাটারিচালিত ইজিবাইকের (টমটম) স্ট্যান্ড দখল এবং আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষের ঘটনায় পুরো বাজার এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং ব্যবসায়ীরা ভয়ে দোকানপাট বন্ধ করে দেন।
রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬) দুপুরে বাহুবল পৌর বাজারের পুরাতন হাসপাতাল সড়কে এ ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষের সূত্রপাত ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাহুবল তোহা বাজারের পাশে বকুলতলা এলাকায় অটোরিকশা ও ইজিবাইকের একটি স্ট্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নেওয়াকে কেন্দ্র করে স্থানীয় চালক ও শ্রমিকদের দুটি পক্ষের মধ্যে গত তিন-চার দিন ধরে চাপা উত্তেজনা ও বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে ইতিপূর্বে কয়েক দফা তর্কাতর্কি ও হাতাহাতির ঘটনাও ঘটেছিল।
এরই ধারাবাহিকতায় রবিবার দুপুরে স্ট্যান্ডটির দখল ও যানবাহন চলাচলকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের চালকদের মধ্যে পুনরায় বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের লোকজন দেশীয় ধারালো অস্ত্রশস্ত্র, লাঠিসোঁটা ও ইটপাটকেল নিয়ে মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন।
প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী চলা এই সংঘর্ষে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া এবং ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ২৫ জন রক্তাক্ত ও আহত হন। সংঘর্ষ চলাকালে বাজারের পথচারী ও ক্রেতাদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং নিরাপত্তার স্বার্থে আশপাশের দোকানপাট দ্রুত বন্ধ করে দেওয়া হয়।
খবর পেয়ে বাহুবল মডেল থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালায়। পরে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসীর যৌথ প্রচেষ্টায় পুলিশ সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। স্থানীয়রা দ্রুত আহতদের উদ্ধার করে বাহুবল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন ক্লিনিকে চিকিৎসার জন্য পাঠান। তাৎক্ষণিকভাবে আহতদের বিস্তারিত নাম-পরিচয় জানা সম্ভব হয়নি।
বাহুবল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুহুল আমিন তালুকদার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, স্ট্যান্ড দখলকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছিল। পুলিশ ও স্থানীয়দের হস্তক্ষেপে বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত ও নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। পুনরায় যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এবং এলাকায় শান্তি বজায় রাখতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে। এ বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
এস এম সোহাগ ফরাজী