বিশ্বনাথে জমি নিয়ে বিরোধে মাইকিং করে দুই গ্রামবাসীর রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ: ইউপি চেয়ারম্যানসহ আহত অন্তত ৩০
সিলেট প্রতিনিধি, শাহ তোফাজ্জুল হোসেন ভান্ডারী:
সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলায় জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে দুই গ্রামবাসীর মধ্যে দফায় দফায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানসহ উভয় পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন।
রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬) বেলা আনুমানিক ২টার দিকে উপজেলার লামাকাজী ইউনিয়নের ভুরকি বাজার এলাকায় এ সংঘর্ষের সূত্রপাত ঘটে।
সংঘর্ষে আহতদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যরা হলেন—লামাকাজী ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান কবির হোসেন ধলা মিয়া, মাসুক মিয়া, কবির মিয়া, মিজানুর রহমান, আতিকুর রহমান, আব্দুল ওয়াহিদ টিটন, জাকির আহমদ, হাজী ছফির আলী, তাজ মিয়া, জনি আহমদ, জয়নাল মিয়া, কয়ছর মিয়া, জমিল মিয়া, সাইদ উদ্দিন ও আলিম উদ্দিনসহ আরও অনেকে। উভয় পক্ষের গুরুতর আহতদের তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধার করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যান্যের স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ক্লিনিকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, লামাকাজী ইউনিয়নের ভুরকি গ্রামের বাসিন্দা ইউপি চেয়ারম্যান কবির হোসেন ধলা মিয়া ও পার্শ্ববর্তী ইশবপুর গ্রামের হাজী ছফির আলীর লোকজনের মধ্যে ফসলি ক্ষেতের জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ ও মামলা-মোকদ্দমা চলে আসছিল। এরই ধারাবাহিকতায় রবিবার দুপুরে জমির দখল ও সীমানা নিয়ে উভয় পক্ষের লোকজনের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা শুরু হয়।
একপর্যায়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে উভয় পক্ষই নিজ নিজ এলাকার মসজিদের মাইকে মাইকিং করে লোকজনকে জড়ো হওয়ার আহ্বান জানায়। মুহূর্তের মধ্যে দুই গ্রামের কয়েকশ মানুষ দেশীয় ধারালো অস্ত্রশস্ত্র, লাঠিসোঁটা ও ইটপাটকেল নিয়ে ভুরকি বাজার এলাকায় মুখোমুখি সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। প্রায় ঘণ্টাব্যাপী চলা এ রক্তক্ষয়ী ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপে পুরো বাজার এলাকা রণক্ষেত্রে রূপ নেয়।
খবর পেয়ে বিশ্বনাথ মডেল থানার একদল পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
সংঘর্ষের বিষয়টি নিশ্চিত করে বিশ্বনাথ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গাজী মাহবুবুর রহমান জানান, জমিজমা সংক্রান্ত পূর্ব বিরোধের জেরে দুই গ্রামবাসীর মধ্যে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পুলিশের হস্তক্ষেপে বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত ও স্বাভাবিক রয়েছে। এ ঘটনায় এখনও কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ দায়ের করেনি; লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এস এম সোহাগ ফরাজী