রাজশাহীতে ফ্ল্যাটে নারীসহ অবরুদ্ধ সাবেক ওসি মাহবুব: ২ ঘণ্টা পর ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় উদ্ধার করে থানায় নিল পুলিশ
স্টাফ রিপোর্টার / রাজশাহী: রাজশাহীতে একটি আবাসিক ফ্ল্যাটে দুই ঘণ্টারও বেশি সময় দরজা বন্ধ করে নারীসহ অবস্থান করার পর ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় সাবেক পুলিশ পরিদর্শক ও সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুব আলমকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার সকালে চন্দ্রিমা থানার নাদের হাজির মোড় সংলগ্ন এলাকায় এ নাটকীয় ঘটনা ঘটে। উদ্ধারের পর ওই নারীসহ মাহবুব আলমকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নেওয়া হয়েছে।
উদ্ধারকৃত নারীকে নিজের স্ত্রী দাবি করলেও ঘটনাস্থলে বৈধ কোনো কাবিননামা দেখাতে পারেননি সাবেক এই পুলিশ কর্মকর্তা।
অভিযোগ ষষ্ঠ স্ত্রীর, ফায়ার সার্ভিস এনে দরজা ভাঙল পুলিশ
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নাদের হাজির মোড়ের ওই ফ্ল্যাটটি মাহবুব আলমের কথিত পালিত মেয়ের নামে ভাড়া নেওয়া, যেখানে তাঁর মেয়ে ও জামাই থাকেন। তবে বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাত থেকে সেখানে মাহবুব আলম এক নারীকে নিয়ে অবস্থান করছিলেন।
এদিকে ফ্ল্যাটের বাইরে অবস্থান নিয়ে নিজেকে মাহবুব আলমের ষষ্ঠ স্ত্রী দাবি করেন নওগাঁর নারী উদ্যোক্তা ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর আন্নি আক্তার। আন্নি অভিযোগ করে বলেন, চলতি বছরের শুরুতে মাহবুব আলমের সাথে তাঁর বিয়ে হয়। বৃহস্পতিবার রাতে মাহবুবের পরকীয়া ও অনৈতিক অবস্থানের খবর পেয়ে শুক্রবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে তিনি ওই ফ্ল্যাটে যান। দীর্ঘক্ষণ কড়া নেড়ে এবং ডাকাডাকি করেও ভেতর থেকে কোনো সাড়া না পেয়ে তিনি জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন দেন।
পরবর্তীতে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও সাবেক ওসির উপস্থিতির কারণে দরজা ভাঙতে বিলম্ব হয়। অবশেষে ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের ডেকে এনে প্রায় দুই ঘণ্টা চেষ্টার পর ভেতর থেকে আটকানো দরজা ভাঙা হয়।
তালাক ও কাবিননামা নিয়ে বিতর্ক
দরজা খোলার পর মাহবুব আলম সাথে থাকা নারীকে নিজের বৈধ স্ত্রী দাবি করেন। তবে পুলিশ কাবিননামা দেখতে চাইলে তিনি কোনো প্রমাণ দেখাতে পারেননি। অন্যদিকে আন্নি আক্তারকে চার দিন আগে তালাক দিয়েছেন এবং সেই কাগজ পুলিশের কাছে জমা দিয়েছেন বলে মাহবুব দাবি করলেও আন্নি জানান, তিনি কোনো তালাকের নোটিশ হাতে পাননি। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন আন্নি।
অনুমতি ছাড়া কর্মস্থল ত্যাগের অভিযোগ
জানা গেছে, ২০২৪ সালে চন্দ্রিমা থানার ওসি থাকাকালে এক ব্যক্তির কাছ থেকে ঘুষের খাম নেওয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে মাহবুব আলমকে প্রত্যাহার করা হয়েছিল। পরবর্তীতে তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয় এবং তিনি নওগাঁ জেলা পুলিশে কর্মরত ছিলেন। বর্তমানে তিনি সিরাজগঞ্জ ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারে সংযুক্ত রয়েছেন।
সিরাজগঞ্জ ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারের কমান্ড্যান্ট মোস্তাক আহমেদ জানিয়েছেন, “মাহবুব আলমের কোনো সরকারি ছুটি মঞ্জুর ছিল না। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে কিছু না জানিয়ে কর্মস্থল ত্যাগ করা গুরুতর শৃঙ্খলাভঙ্গ ও অপরাধ। বিষয়টি নওগাঁ জেলা পুলিশকে অবহিত করা হয়েছে।”
চন্দ্রিমা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মাহমুদ সিদ্দিকী জানান, মাহবুব আলম ও ওই নারীকে হেফাজতে রাখা হয়েছে। ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা থানায় আসার পর সার্বিক বিষয় তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এস এম সোহাগ ফরাজী