নিখোঁজের একদিন পর লালমাই পাহাড়ে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকের ছেলের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার: মাথায় গুরুতর আঘাতের চিহ্ন
কুমিল্লা ও ক্রাইম ডেস্ক / শাহ তোফাজ্জুল হোসেন ভান্ডারী: কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র সন্তান অপ্রতীমের (১৩) রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিখোঁজ হওয়ার একদিন পর শনিবার দুপুরে লালমাই পাহাড়ের নির্জন স্থান থেকে ওই স্কুলশিক্ষার্থীর মরদেহ পাওয়া যায়। তার মাথায় গুরুতর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬) দুপুরে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার বিজয়পুর ইউনিয়নের সানন্দা সংলগ্ন লালমাই পাহাড়ের একটি জঙ্গল থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
ছবি তুলতে বের হয়ে আর ফেরেনি অপ্রতীম
নিহত অপ্রতীম কুমিল্লা বর্ডারগার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। সে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগম এবং কে এম ফিরোজ শাহরিয়ারের একমাত্র সন্তান। তারা কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের কোটবাড়ি এলাকায় পরিবার নিয়ে বসবাস করেন।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গতকাল শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে মায়ের একটি আইফোন সাথে নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তোলার উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হয় অপ্রতীম। এরপর সন্ধ্যা পেরিয়ে রাত নামলেও সে আর বাসায় ফিরে আসেনি। সম্ভাব্য সকল স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও কোনো হদিস না পেয়ে ওই রাতেই সদর দক্ষিণ মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন তার বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার। এর আগে মা ড. নাহিদা বেগম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছেলের ছবি পোস্ট করে সন্ধান পেতে সকলের সহযোগিতা কামনা করেছিলেন।
মাথায় গুরুতর আঘাতের চিহ্ন, নেপথ্যে হত্যাকাণ্ডের শঙ্কা
শনিবার দুপুরে স্থানীয়দের তথ্যের ভিত্তিতে লালমাই পাহাড়ের সানন্দা গ্রামের গহিন জঙ্গল এলাকায় একটি মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেওয়া হয়। পরে সদর দক্ষিণ মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অপ্রতীমের রক্তাক্ত মরদেহ শনাক্ত ও উদ্ধার করে।
সুরতহাল প্রস্তুতকালে তার মাথায় গভীর ও গুরুতর জখমের চিহ্ন শনাক্ত করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, নির্জন পাহাড়ে নিয়ে তাকে ভারী কোনো বস্তু বা অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে।
তদন্তে নেমেছে পুলিশ, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ
মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ (কুমেক) হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ।
সদর দক্ষিণ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রকিবুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, “দক্ষিণ মোড়ের দক্ষিণ পাশের জঙ্গল থেকে কিশোর অপ্রতীমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তার মাথায় মারাত্মক আঘাতের জখম রয়েছে। নিখোঁজের পর থেকেই পুলিশ বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে অনুসন্ধান করছিল। অপ্রতীম বাসা থেকে বের হওয়ার পর তার সর্বশেষ গতিবিধি এবং কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ও আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ নিবিড়ভাবে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড কি না এবং ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত, তা উদঘাটনে পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে।”
বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকের একমাত্র সন্তানের এমন বর্বরোচিত ও রহস্যজনক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার এবং পুরো এলাকায় গভীর শোক ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।
এস এম সোহাগ ফরাজী