শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্সে ৩৪ দিনে মিলল ৮৮ লাখ ৯২ হাজার টাকা: ৪র্থ দফায় রেকর্ড অর্থ সংগ্রহ, নিশ্চিত করলেন সিসিক প্রশাসক
সিলেট ব্যুরো / শাহ তোফাজ্জুল হোসেন ভান্ডারী: সিলেটের পুণ্যভূমিখ্যাত হযরত শাহজালাল মুজাররদে ইয়ামনি (রহ.)-এর দরগাহ শরিফের দানবাক্স (সিন্দুক) দীর্ঘ ৩৪ দিন পর খুলে অর্থ গণনা সম্পন্ন হয়েছে। দিনভর কড়া নিরাপত্তায় গণনা শেষে চতুর্থ দফায় রেকর্ড ৮৮ লাখ ৯২ হাজার ৯৬৬ টাকা পাওয়া গেছে।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬) সকাল ৯টা থেকে শুরু হওয়া গণনার আনুষ্ঠানিকতা শেষ হয় সন্ধ্যায়। সন্ধ্যা ৬টার দিকে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের (সিসিক) প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী গণমাধ্যমকে মোট প্রাপ্ত অর্থের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
দিনভর চলল গণনা
সকালে সিসিক প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, জেলা প্রশাসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতিতে দানবাক্সগুলো খোলা হয়। এরপর মাজারের দায়িত্বপ্রাপ্ত খাদেম, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও ব্যাংকের দক্ষ ক্যাশিয়ারদের সমন্বয়ে গঠিত দল সতর্কতার সঙ্গে অর্থ গণনার কাজ সম্পন্ন করে। দেশীয় নগদ টাকার পাশাপাশি উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা এবং স্বর্ণ ও রুপার অলংকারও দানবাক্সে মিলেছে।
গণনা শেষে প্রাপ্ত পুরো অর্থ কড়া পুলিশি পাহারায় দরগাহ শরিফের নির্ধারিত ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা করার প্রক্রিয়া চলছে এবং অলংকারগুলো ব্যাংকের ভল্টে সংরক্ষণের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
পূর্ববর্তী তিন দফার হিসাব
মাজার কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে এর আগে আরও তিন দফায় দরগাহর দানবাক্স ও মানতের ডেগ খুলে অর্থ গণনা করা হয়েছিল:
প্রথম দফা (২২ জুন): দানবাক্স থেকে নগদ ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা, স্বর্ণালঙ্কার ও বিদেশি মুদ্রা সংগ্রহ করা হয়। পরবর্তীতে জেলা প্রশাসনের তহবিল থেকে ৫ লাখ টাকার চেক যুক্ত হয়ে মোট জমার পরিমাণ দাঁড়ায় ২২ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা।
দ্বিতীয় দফা (১১ জুলাই): ১৮ দিন পর দানবাক্স খুলে পাওয়া যায় ৪৭ লাখ ১০ হাজার ১৫৩ টাকা এবং বিভিন্ন দেশের মুদ্রা ও স্বর্ণ-রুপা।
তৃতীয় দফা (১৫ আগস্ট): দানবাক্স ও মানতের ডেগ খুলে পাওয়া যায় ৭০ লাখ ৮৮ হাজার ৬৭২ টাকাসহ প্রচুর বিদেশি মুদ্রা ও মূল্যবান সোনা-রূপার অলংকার।
সর্বশেষ চতুর্থ দফায় ৩৪ দিনের ব্যবধানে প্রাপ্ত ৮৮ লাখ ৯২ হাজার ৯৬৬ টাকা পূর্বের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। সংগৃহীত এই অর্থ মাজার ও দরগাহ মসজিদের উন্নয়ন, সংশ্লিষ্টদের বেতন-ভাতা, এতিমখানা ও মানবিক সেবামূলক খাতে ব্যয় করা হবে।
এস এম সোহাগ ফরাজী