৩৪ দিন পর আবারও সিলেটে হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজারের দানবাক্স খোলা: সিসিক প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীর উপস্থিতিতে চলছে টাকা গণনা
সিলেট ব্যুরো: দীর্ঘ ৩৪ দিন পর সিলেটের ঐতিহ্যবাহী ও পুণ্যস্মৃতিবিজড়িত হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর দরগাহ শরিফের দানবাক্স (সিন্দুকগুলো) আবারও খোলা হয়েছে। সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীর উপস্থিতিতে সিন্দুকগুলো খুলে কড়া নিরাপত্তায় টাকা গণনা কার্যক্রম শুরু হয়।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬) সকাল থেকে দরগাহ মসজিদ ও মাজার প্রাঙ্গণে নির্ধারিত স্থানে এ গণনা কার্যক্রম শুরু করা হয়।
সিসিক প্রশাসকের উপস্থিতি ও গণনা কার্যক্রম
সকালে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী মাজার প্রাঙ্গণে উপস্থিত হয়ে দানবাক্স খোলার কার্যক্রম তদারকি করেন। এ সময় তাঁর সাথে দরগাহ পরিচালনা কমিটির শীর্ষ নেতৃবৃন্দ, জেলা প্রশাসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
সিন্দুকগুলো খোলার পর বস্তায় ভরে টাকা গণনাকেন্দ্রে নিয়ে আসা হয়। এরপর মাজারের খাদেম, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও ব্যাংকের দক্ষ ক্যাশিয়ারদের সমন্বয়ে গঠিত দল সতর্কতার সাথে টাকা গণনার কাজ পরিচালনা করছে। দেশীয় নগদ মুদ্রার পাশাপাশি প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা এবং স্বর্ণ-রুপার অলংকারও দানবাক্সে পাওয়া গেছে।
ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা হবে অর্থ
মাজার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গণনা সম্পন্ন হতে বিকেল বা সন্ধ্যা পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। দিনভর গণনা শেষে প্রাপ্ত অর্থের মোট পরিমাণ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে। এরপর তাৎক্ষণিকভাবে সম্পূর্ণ অর্থ পুলিশের কঠোর নিরাপত্তায় মাজারের নির্ধারিত ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা করা হবে এবং প্রাপ্ত স্বর্ণালংকার ব্যাংকের ভল্টে নিরাপদ হেফাজতে রাখা হবে।
উল্লেখ্য, শাহজালাল (রহ.)-এর দরগাহ শরিফের দানবাক্স থেকে সংগৃহীত অর্থ মাজার ও দরগাহ জামে মসজিদের উন্নয়ন, পরিচালনা ব্যয়, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন, এতিমখানা এবং বিভিন্ন দাতব্য ও জনকল্যাণমূলক খাতে ব্যয় করা হয়।
এস এম সোহাগ ফরাজী