খিলগাঁওয়ে বিএনপি কর্মী রাব্বী হত্যা: শেখ হাসিনা, জয়সহ ১২৫ জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন, পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ
আদালত ও অপরাধ ডেস্ক / ঢাকা: জুলাই বিপ্লবের চূড়ান্ত দিনে রাজধানীর খিলগাঁওয়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে বিএনপি কর্মী জাহিদ হোসেন রাব্বী নিহত হওয়ার ঘটনায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তাঁর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়, আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতা, সাবেক মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী, আমলা, চার সাবেক আইজিপিসহ ১২৫ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলার আবেদন করা হয়েছে।
ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রৌনক জাহান তাকির আদালতে এ মামলার আবেদনটি করেন নিহত রাব্বীর মামা ও খিলগাঁও থানা যুবদলের ঝিলপাড় ইউনিট সদস্য নাঈম কলিমুল্লাহ সরকার। সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. রিপন মিয়া মামলার আবেদনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আদালতের নির্দেশ ও পিবিআই তদন্ত
আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ শেষে অভিযোগটি সরাসরি আমলে নিয়ে তদন্তের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) নির্দেশ দিয়েছেন। একই সাথে আগামী ২ নভেম্বর ২০২৬ তারিখের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আসামির তালিকায় সাবেক শীর্ষ নেতৃত্ব ও মন্ত্রীরা
মামলার এজাহারভুক্ত উল্লেখযোগ্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন—সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, নিরাপত্তাবিষয়ক উপদেষ্টা তারিক আহমেদ সিদ্দিকী, সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, সাবেক খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম, সাবেক সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর, আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, শাজাহান খান, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, ড. আব্দুর রাজ্জাক, সাবেক পরিবেশমন্ত্রী সাবের হোসেন চৌধুরী, সাবেক পাটমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবীর নানক, হাসানুল হক ইনু ও রাশেদ খান মেনন।
এছাড়াও সাবেক অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল (লোটাস কামাল), সাবেক তিন প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু, মোহাম্মদ এ আরাফাত ও জুনাইদ আহমেদ পলক, সাবেক তিন মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস, আতিকুল ইসলাম ও জাহাঙ্গীর আলমসহ সাবেক সংসদ সদস্য মাহবুব-উল-আলম হানিফ, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, মির্জা আজম, মুজিবুর রহমান চৌধুরী (নিক্সন চৌধুরী), সাইফুজ্জামান শিখর, নূরুন্নবী চৌধুরী শাওন, নজরুল ইসলাম বাবু ও ডা. হাবিবে মিল্লাতকে আসামি করা হয়েছে।
শীর্ষ আমলা, পুলিশ কর্মকর্তা ও আইনজীবীরাও অভিযুক্ত
মামলায় সাবেক আমলাদের মধ্যে সাবেক মুখ্য সচিব তোফাজ্জল হোসেন মিয়া, সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব মাহবুব হোসেন, সাবেক অতিরিক্ত সচিব হারুন অর রশীদ বিশ্বাস, সাবেক যুগ্ম সচিব ধনঞ্জয় কুমার দাস, আবুল ফজল মীর বাদল ও সাবেক অতিরিক্ত সচিব শায়লা ফারজানা শিউলিকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক চার আইজিপি এ কে এম শহীদুল হক, বেনজীর আহমেদ, জাবেদ পাটোয়ারী ও চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল-মামুন। এছাড়া এনটিএমসির সাবেক মহাপরিচালক জিয়াউল আহসান, সাবেক ডিএমপি কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়া ও হাবিবুর রহমান, ডিবির সাবেক প্রধান হারুন-অর-রশীদ, এসবির সাবেক প্রধান মনিরুল ইসলাম এবং সাবেক আলোচিত তদন্ত কর্মকর্তা আব্দুল কাহার আকন্দকে আসামি করা হয়েছে।
আইনজীবীদের মধ্যে সৈয়দ রেজাউর রহমান, নজিবুল্লাহ হিরু, মোশাররফ হোসেন কাজল ও খুরশীদ আলম খানের নামও এজাহারে রয়েছে।
যেভাবে নিহত হন রাব্বী
মামলার বিবরণীতে উল্লেখ করা হয়, নিহত জাহিদ হোসেন রাব্বী বিএনপির রাজনীতির সাথে সরাসরি যুক্ত ছিলেন। পেশাগত জীবনে তিনি একজন ফ্রিল্যান্স ফটোগ্রাফার ও গ্রাফিক্স ডিজাইনার ছিলেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের চূড়ান্ত দিনে দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে খিলগাঁও তালতলা এলাকায় গণমিছিলে অংশ নেন তিনি। এ সময় তৎকালীন সরকারের উচ্চপর্যায়ের নির্দেশে আন্দোলনকারীদের ওপর নির্বিচারে গুলিবর্ষণ করা হলে রাব্বী মাথায় ও বুকে গুলিবিদ্ধ হয়ে লুটিয়ে পড়েন। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
এস এম সোহাগ ফরাজী