নুসরাত হত্যা মামলায় উচ্চ আদালতে খালাস: কাশিমপুর কারাগার থেকে মুক্ত কামরুন্নাহার মনিসহ ৮ জন, ৭ বছরের সন্তান নিয়ে বাড়ি ফেরা
ক্রাইম ও জাতীয় ডেস্ক / গাজীপুর: ফেনীর সোনাগাজীর বহুল আলোচিত মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় উচ্চ আদালতের রায়ে খালাস পাওয়া কামরুন্নাহার মনিসহ আটজন গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন। আদালতের চূড়ান্ত আদেশের নথি পৌঁছানোর পর প্রয়োজনীয় আইনি যাচাই-বাছাই শেষে তাঁদের মুক্তি দেওয়া হয়।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬) দুপুর ১২টা ৪৫ মিনিট থেকে কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগার ও কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে পর্যায়ক্রমে তাঁদের মুক্তি দেওয়া শুরু হয়। দীর্ঘ কারাবাস শেষে কারাগারের ফটক পেরিয়ে স্বজনদের কাছে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তাঁরা।
কাশিমপুর কারাগার থেকে মুক্তি পেলেন যাঁরা
কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার মো. জাকির হোসেন মুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, বিজ্ঞ আদালতের খালাসের আদেশের নথি কারাগারে পৌঁছানোর পর প্রশাসনিক আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে সংশ্লিষ্ট আটজনকে পর্যায়ক্রমে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।
মুক্তি পাওয়া আটজন হলেন—
১. মো. শামীম
২. হাফেজ আব্দুল কাদের
৩. মহিউদ্দিন শাকিল
৪. আফসার উদ্দিন
৫. ইমরান হোসেন মামুন
৬. ইফতেখার উদ্দিন রানা
৭. আব্দুর রহিম শরীফ
৮. কামরুন্নাহার মনি।
কারাফটকে স্বজনদের কান্না ও সন্তান নিয়ে মনির ফেরা
এদিন খালাসপ্রাপ্ত নারী আসামি কামরুন্নাহার মনির সঙ্গে কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে বের হয় তাঁর সাত বছর বয়সী শিশুকন্যা মোবাশ্বেরা খানম রাথী। মুক্তির খবর পেয়ে মঙ্গলবার সকাল থেকেই আসামিদের পরিবারের সদস্য ও আত্মীয়স্বজনরা কাশিমপুর কারাগারের প্রধান ফটকের বাইরে ভিড় জমান।
দুপুরে একে একে কারাগার থেকে বের হওয়ার পরপরই দীর্ঘদিন পর প্রিয়জনদের জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়েন আসামিরা। সেখানে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। স্বজনদের সঙ্গে প্রাথমিক সাক্ষাৎ শেষে তাঁরা নিজ এলাকা ফেনীর উদ্দেশে রওনা হন।
নিম্ন আদালতের রায় থেকে উচ্চ আদালতের পুনর্বিবেচনা
২০১৯ সালের বহুল আলোচিত এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল তৎকালীন সময়ে মামলার ১৬ আসামির সবাইকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছিলেন।
পরবর্তীতে ডেথ রেফারেন্স ও আসামিদের আপিলের চূড়ান্ত শুনানি শেষে উচ্চ আদালত নিম্ন আদালতের দেওয়া রায় পুনর্বিবেচনা করেন। উচ্চ আদালতের রায়ে মোট ১০ জন আসামিকে মামলা থেকে পুরোপুরি খালাস দেওয়া হয়।
একই সঙ্গে নিম্ন আদালতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত চার আসামির সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং মূল পরিকল্পনাকারী অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা ও শাহাদাত হোসেন শামীম—এই দুজনের ফাঁসির রায় বহাল রাখা হয়। সাজা হ্রাস পেয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত চার আসামি হলেন—উম্মে সুলতানা পপি, মোহাম্মদ নুরুদ্দিন, শাহাদাত হোসেন জাবেদ ও ইফতেখার হোসেন রানা।
এস এম সোহাগ ফরাজী