ফতুল্লায় কোটি টাকার চুরির রহস্য উদঘাটন: ৫০ ভরি স্বর্ণ ও ৯ ভরি রূপাসহ চালক গ্রেফতার
/ স্টাফ রিপোর্টার: নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা মডেল থানাধীন শিকদার বাজার এলাকায় দিনেদুপুরে সংঘটিত কোটি টাকার বেশি মূল্যের দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে বাড়ির ব্যক্তিগত গাড়িচালক হোসেনকে (৪২) গ্রেফতার করা হয়েছে। একই সঙ্গে তার হেফাজত থেকে চুরি যাওয়া প্রায় ৫০ ভরি স্বর্ণালংকার ও ৯ ভরি রূপার অলংকার উদ্ধার করা হয়েছে।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬) রাত আনুমানিক সাড়ে ১০টার দিকে ফতুল্লার শিকদার বাজার এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ।
দিনের আলোয় কোটি টাকার মালামাল চুরি
মামলার সূত্রে জানা গেছে, গত ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখ সকাল ৯টা ৫০ মিনিট থেকে দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটের মধ্যে ফতুল্লার শিকদার বাজার, গাবতলী টাগারপাড় এলাকার একটি বসতবাড়িতে চুরির এ ঘটনা ঘটে। পরিবারের সদস্যদের অনুপস্থিতির সুযোগে অজ্ঞাত পরিচয় চোরেরা ঘরের ভেতরে কৌশলে প্রবেশ করে আলমারি ভেঙে নগদ ২ লাখ ২০ হাজার টাকা, বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ ও রূপার অলংকার এবং চুরির আলামত নষ্ট করতে সিসি ক্যামেরার ডিভিআর মেশিনসহ আনুমানিক ১ কোটি ১০ লাখ ৫০ হাজার টাকার মালামাল নিয়ে যায়।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে ফতুল্লা মডেল থানায় একটি নিয়মিত চুরি মামলা দায়ের করা হয়।
সিসিটিভি ফুটেজে চালকের সন্দেহজনক উপস্থিতি
মামলা দায়েরের পর তদন্তে নামে পুলিশ। ঘটনাস্থলের আশপাশের বিভিন্ন দোকান ও বাসাবাড়ির সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে তা নিবিড়ভাবে পর্যালোচনা করা হয়। ফুটেজে দেখা যায়, ঘটনার দিন পরিবারের সদস্যদের অগোচরে ওই বাড়ির ড্রাইভার হোসেন চুপিসারে বাড়িতে প্রবেশ করে এবং কিছু সময় পর দ্রুত গতিতে বেরিয়ে যায়। এ তথ্যের ওপর ভিত্তি করে পুলিশ চালক হোসেনের গতিবিধির ওপর গোপন নজরদারি বাড়ায়।
পুলিশের অভিযান ও অলংকার উদ্ধার
নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমানের নির্দেশনায় এবং ফতুল্লা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ মাহবুব আলমের তত্ত্বাবধানে এসআই (নি.) পলাশ বাউন ও এসআই মিলন ফকিরের নেতৃত্বে পুলিশের একটি চৌকস দল অভিযানে নামে।
ধারাবাহিক অভিযানের অংশ হিসেবে সোমবার রাতে শিকদার বাজার এলাকা থেকে এজাহারনামীয় আসামি হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়। পরবর্তীতে তার দেখানো তথ্যমতে অভিযান চালিয়ে হেফাজতে থাকা ৪৯ ভরি ১৫ আনা স্বর্ণালংকার এবং ৮ ভরি ১৪ আনা রূপার অলংকার উদ্ধার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।
গ্রেফতারকৃতের পরিচয় ও আইনি ব্যবস্থা
গ্রেফতার হওয়া চালক হোসেনের মূল বাড়ি শেরপুর জেলার সদর থানার চাপাতলী গ্রামে। তার বাবার নাম কালাম। সে দীর্ঘদিন ধরে ফতুল্লার চানমারি এলাকায় জাকিরের বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করছিল।
ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃত আসামিকে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। চুরি যাওয়া নগদ টাকা, সিসিটিভির ডিভিআরসহ অবশিষ্ট মালামাল উদ্ধার এবং এ ঘটনার সাথে অন্য কারও যোগসাজশ আছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে অভিযান ও তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
এস এম সোহাগ ফরাজী