মানবতাবিরোধী অপরাধে ওবায়দুল কাদেরসহ শীর্ষ ৭ নেতার ফাঁসির রায়: বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের মামলায় ট্রাইব্যুনালের চূড়ান্ত আদেশ
আদালত প্রতিবেদক / ঢাকা: বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাত শীর্ষ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল জনাকীর্ণ আদালতে এ ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেন।
ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন—বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ এবং বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর। দুপুর ১২টা ১০ মিনিট থেকে ১২টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত ৫৫৭ পৃষ্ঠার দীর্ঘ রায়ের সংক্ষিপ্ত সারসংক্ষেপ পাঠ করে ট্রাইব্যুনাল এ আদেশ প্রদান করেন। দণ্ডপ্রাপ্ত সাত আসামির সবাই বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ৭ আসামি
১. ওবায়দুল কাদের, সাধারণ সম্পাদক, আওয়ামী লীগ
২. আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, আওয়ামী লীগ
৩. মোহাম্মদ আলী আরাফাত, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী
৪. শেখ ফজলে শামস পরশ, সভাপতি, যুবলীগ
৫. মাইনুল হোসেন খান নিখিল, সাধারণ সম্পাদক, যুবলীগ
৬. সাদ্দাম হোসেন, সভাপতি, নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ
৭. শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান, সাধারণ সম্পাদক, নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ
রায়ের বিবরণ
রায়ের মূল অংশ পড়ার শুরুতেই ট্রাইব্যুনাল আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের বিরুদ্ধে আনীত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় তাঁর সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করেন।
পর্যায়ক্রমে সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের শীর্ষ দুই নেতা শেখ ফজলে শামস পরশ ও মাইনুল হোসেন খান নিখিল এবং নিষিদ্ধ ছাত্রসংগঠন ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনানের বিরুদ্ধেও একই ধারায় ফাঁসির আদেশ প্রদান করা হয়।
মামলার আদ্যোপান্ত ও বিচারপ্রক্রিয়া
২০২৫ সালের ১৮ জুন এই মামলার আনুষ্ঠানিক তদন্ত কাজ শুরু করে তদন্ত সংস্থা। তদন্ত শেষে একই বছরের ৭ ডিসেম্বর চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। ১৮ ডিসেম্বর ট্রাইব্যুনালে ফরমাল চার্জ দাখিল হলে আদালত তা আমলে নেন। পরবর্তীতে আসামিরা পলাতক থাকায় আইনি প্রক্রিয়া শেষে চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরু হয়।
১৭ ফেব্রুয়ারি প্রথম সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণের মাধ্যমে মামলার আনুষ্ঠানিক সাক্ষ্যপর্ব শুরু হয়ে ২ আগস্ট শেষ হয়। তদন্ত কর্মকর্তাসহ মোট ২৯ জন সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য দেন। সাক্ষীদের মধ্যে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে শহিদ শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুর পূর্বে দেওয়া জবানবন্দি এবং প্রসিকিউশনের উপস্থাপিত মোট ১২৩টি সিরিজের দালিলিক প্রমাণাদি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
গত ৪ আগস্ট থেকে ১৭ আগস্ট পর্যন্ত ৯ কার্যদিবসে রাষ্ট্রপক্ষ ও স্টেট ডিফেন্সের চূড়ান্ত যুক্তিতর্ক শেষে মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখা হয়। দীর্ঘ আইনি ও বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে মঙ্গলবার ট্রাইব্যুনাল এই রায় ঘোষণা করেন।
এস এম সোহাগ ফরাজী