প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে অভিনেত্রী বাঁধনের বাসায় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী: রাষ্ট্রীয় সহযোগিতায় কৃতজ্ঞতা জানিয়ে ঐক্যের ডাক
বিনোদন ও জাতীয় ডেস্ক / ঢাকা: অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন ও তাঁর পরিবারের সার্বিক খোঁজখবর নিতে তাঁর বাসায় গেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. হুমায়ুন কবির। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬) তিনি বাঁধনের বাসভবনে গিয়ে সাক্ষাৎ করেন এবং পরিবারের সার্বিক খোঁজ নেন।
রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এমন উদ্যোগ ও দায়িত্বশীল আচরণের জন্য সরকারের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন এই অভিনেত্রী।
প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগে বাঁধনের প্রতিক্রিয়া
সাক্ষাৎ শেষে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে আজমেরী হক বাঁধন জানান, কঠিন সময়ে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর এই পদক্ষেপ তাঁকে ব্যক্তিগতভাবে গভীরভাবে আশ্বস্ত করেছে। তিনি বলেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর আমাদের বাসায় আসা, আন্তরিকতা এবং দায়িত্বশীলতার জন্য আমি গভীরভাবে সম্মানিত ও কৃতজ্ঞ। এই উদ্যোগ একজন নাগরিক হিসেবে রাষ্ট্রের প্রতি আমার আস্থাকে আরও অনেক দৃঢ় করেছে।”
তিনি আরও বলেন, “একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো তার জনগণ। আর সেই জনগণের নিরাপত্তা, মর্যাদা ও মৌলিক অধিকার রক্ষায় রাষ্ট্র যখন অভিভাবকের মতো দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করে, তখন নাগরিক ও রাষ্ট্রের পারস্পরিক সম্পর্কের ভিত্তি মজবুত হয়।”
ইতালি সংকটে সহায়তাকারীদের ধন্যবাদ
সম্প্রতি ইতালিতে এক কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়ার কথা উল্লেখ করে বাঁধন জানান, সেই দুঃসময়ে বাংলাদেশ সরকার, মাননীয় সরকারপ্রধান, বাংলাদেশ দূতাবাস, ইতালীয় প্রশাসন ও পুলিশ বিভাগ অত্যন্ত মানবিক সহায়তা প্রদান করেছে। এছাড়াও দেশে ও প্রবাসে যেসব সাধারণ মানুষ তাঁর ও পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন, তাঁদের সবার প্রতি তিনি গভীর কৃতজ্ঞতা জানান।
ঐক্য ও নাগরিক অধিকার নিয়ে দৃঢ় বার্তা
এই অভিজ্ঞতাকে জীবনের বড় এক শিক্ষা হিসেবে উল্লেখ করে অভিনেত্রী বাঁধন বলেন, “অন্যায়, ভয় ও বিভাজনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো ঐক্য, সাহস এবং মানুষের প্রতি মানুষের নিঃস্বার্থ দায়িত্ববোধ। সমাজে মতের ভিন্নতা বা রাজনৈতিক অমিল থাকতেই পারে, কিন্তু কোনো নাগরিকের নিরাপত্তা, মর্যাদা ও সাংবিধানিক অধিকার নিয়ে কখনোই কোনো আপস হতে পারে না।”
একটি নিরাপদ, মানবিক ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে মানুষ ঐক্যবদ্ধ হলে অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর শক্তি বহুগুণ বৃদ্ধি পায়। সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি গণতান্ত্রিক ও মর্যাদাপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
এস এম সোহাগ ফরাজী।