নাসিরনগরে পুকুরের জমি নিয়ে দুই পক্ষের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে টেঁটাবিদ্ধ যুবক নিহত: ঢাকায় প্রেরিত ৪, এলাকায় টানটান উত্তেজনা
স্টাফ রিপোর্টার / শাহ তোফাজ্জুল হোসেন ভান্ডারী: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে পুকুরের জমি সংক্রান্ত পূর্ববিরোধের জের ধরে দুই গোষ্ঠীর মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে প্রতিপক্ষের টেঁটার আঘাতে নাজিমোল্লা (নাজিমউদ্দিন) নামের এক যুবক ঘটনাস্থলেই নিহত হয়েছেন। সংঘর্ষে আরও বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চারজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬) বিকেলে নাসিরনগর উপজেলার বুড়িশ্বর ইউনিয়নের বুড়িশ্বর বাজারের পাশে নাসিরনগর-সরাইল-লাখাই আঞ্চলিক মহাসড়কের ওপর এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
যে কারণে সংঘর্ষের সূত্রপাত
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুড়িশ্বর গ্রামের আব্দুল আউয়াল মিয়া গ্রুপ এবং ফজু মিয়া গ্রুপের মধ্যে একটি পুকুরের মালিকানা ও জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এ বিরোধের জের ধরে শুক্রবার বিকেলে উভয় পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র, টেঁটা, বল্লম ও লাঠিসোঁটা নিয়ে আঞ্চলিক মহাসড়কে মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
রণক্ষেত্রে রূপ নেওয়া এ সংঘর্ষে আউয়াল গ্রুপের নেতা আব্দুল আউয়ালের ছেলে নাজিমোল্লা টেঁটাবিদ্ধ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।
আহতদের অবস্থা আশঙ্কাজনক
সংঘর্ষে উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হলে স্থানীয়রা তাঁদের উদ্ধার করে নাসিরনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর আব্দুল আউয়াল মিয়াসহ চারজনের শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি হলে জরুরি ভিত্তিতে তাঁদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন অন্য আহতরা হলেন—রহিছ মিয়া, তাউস মিয়া ও কালন মিয়া।
এলাকাজুড়ে উত্তেজনা, বাড়িছাড়া প্রতিপক্ষ
নাজিমোল্লা নিহত হওয়ার খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে তীব্র উত্তেজনা দেখা দেয়। সংঘাতের পর হামলার ভয়ে ফজু মিয়া গ্রুপের লোকজন ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে গেছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ওবায়দুর রহমান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। নতুন করে সহিংসতা ও অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকায় বিপুল সংখ্যক অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে অভিযান চলছে।
দৈনিক জীবনযাত্রা