মহম্মদপুরে ধানখেত থেকে অজ্ঞাত যুবকের মরদেহ উদ্ধার: ট্রান্সফরমার চুরির সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যুর ধারণা পুলিশের
স্টাফ রিপোর্টার / শাহ তোফাজ্জুল হোসেন ভান্ডারী: মাগুরার মহম্মদপুরে সেচ পাম্পের বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার চুরি করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তির করুণ মৃত্যু হয়েছে।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬) সকালে উপজেলার বালিদিয়া ইউনিয়নের বড়রিয়া গ্রামের কানাবিল মাঠের একটি ধানখেত থেকে তাঁর নিথর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
যেভাবে ঘটে ঘটনাটি
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার দিবাগত রাতের কোনো এক সময়ে সংঘবদ্ধ চোরচক্রের ওই সদস্য কানাবিল মাঠে থাকা কৃষকদের একটি সেচ পাম্পের বৈদ্যুতিক খুঁটিতে ওঠেন। খুঁটি থেকে ট্রান্সফরমার খোলার চেষ্টা চালানোর একপর্যায়ে অসাবধানতাবশত তিনি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন বৈদ্যুতিক তারে জড়িয়ে পড়েন। এতে ঘটনাস্থলেই বিদ্যুতায়িত হয়ে তিনি নিচে থাকা ধানখেতে আছড়ে পড়েন এবং প্রাণ হারান।
শনিবার সকালে স্থানীয় কৃষকরা কানাবিল মাঠে ধানখেতে কাজ করতে গিয়ে মরদেহটি পড়ে থাকতে দেখেন। খবর পেয়ে আশপাশের গ্রামের শত শত মানুষ ভিড় জমায়। পরে স্থানীয়রা তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি মহম্মদপুর থানা পুলিশকে জানান।
পুলিশের উদ্ধার অভিযান ও পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা
খবর পাওয়া মাত্রই মহম্মদপুর থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে। তবে আশপাশের কোনো ব্যক্তি তাঁর সঠিক নাম ও পরিচয় শনাক্ত করতে পারেননি। পুলিশের ধারণা, তিনি আন্তঃজেলা ট্রান্সফরমার চোরচক্রের সক্রিয় সদস্য হতে পারেন।
ওসি শামীম আহমেদের বক্তব্য
মহম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামীম আহমেদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, “মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মাগুরা ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সদর হাসপাতাল (মাগুরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল) মর্গে পাঠানো হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে, ট্রান্সফরমার চুরি করতে গিয়েই বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। নিহতের আঙুলের ছাপ ও আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় জাতীয় পরিচয়পত্র শনাক্তের চেষ্টা চলছে।”
তিনি আরও জানান, এই চুরির ঘটনার সঙ্গে ঘটনাস্থলে আরও কেউ উপস্থিত ছিল কি না এবং এর পেছনে থাকা সংঘবদ্ধ চোরচক্রের নেটওয়ার্ক শনাক্তে পুলিশি তদন্ত জোরদার করা হয়েছে। এ বিষয়ে একটি অপমৃত্যুর (ইউডি) মামলা প্রক্রিয়াধীন।