গোলাপগঞ্জে কুশিয়ারা নদীতে ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ: ‘সাদিপুর মিসাইল’কে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন ‘হাকালুকির বাঘ’
সিলেট ব্যুরো / শাহ তোফাজ্জুল হোসেন ভান্ডারী: কুশিয়ারা নদীর বুকে বৈঠার ছন্দ আর হাজারো দর্শকের করতালিতে মুখরিত হয়ে উঠেছিল সিলেটের গোলাপগঞ্জ। বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে সমাপ্ত হওয়া ঐতিহ্যবাহী এই নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতার ফাইনালে বড়লেখার শক্তিশালী দল ‘সাদিপুর মিসাইল’কে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে শরীফগঞ্জ ইউনিয়নের ‘হাকালুকির বাঘ’।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬) বিকেলে গোলাপগঞ্জের কুশিয়ারা নদীতে বৃহত্তর চন্দরপুর সিএনজি ৭০৭ শাখা ও স্থানীয় যুবসমাজের যৌথ উদ্যোগে এ ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচের আসর অনুষ্ঠিত হয়।
কুশিয়ারার দুই তীরে লাখো মানুষের ঢল
মোট পাঁচটি দল নিয়ে অনুষ্ঠিত এই প্রতিযোগিতাকে কেন্দ্র করে দুপুর থেকেই কুশিয়ারা নদীর দুই তীরে বিভিন্ন বয়সের হাজারো নারী-পুরুষের ঢল নামে। ঢোল-ডঙ্কা, কাঁসা আর বৈঠার তালে তালে গায়েনদের সারি গানের সুরে উৎসবে রূপ নেয় পুরো এলাকা। টানটান উত্তেজনার ফাইনালে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই শেষে বড়লেখার ‘সাদিপুর মিসাইল’কে পেছনে ফেলে প্রথম স্থান ছিনিয়ে নেয় ‘হাকালুকির বাঘ’।
এমপি এমরান আহমদ চৌধুরীর বক্তব্য
প্রতিযোগিতা শেষে আয়োজিত পুরস্কার বিতরণী পর্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিলেট-৬ (গোলাপগঞ্জ-বিয়ানীবাজার) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী।
তিনি বলেন, “নৌকা বাইচ কেবল একটি খেলাই নয়, এটি আমাদের আবহমান গ্রামবাংলার সমৃদ্ধ সংস্কৃতি ও ঐক্যের প্রতীক। প্রতি বছরই এই অঞ্চলে এমন সুন্দর আয়োজন মানুষের মনে আনন্দ যোগায়। আগামীতে এই প্রতিযোগিতা আরও বৃহৎ ও আকর্ষণীয় পরিসরে আয়োজনের সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়া হবে।”
ক্রীড়া মনোভাব বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে সংসদ সদস্য আরও বলেন, “খেলায় জয়-পরাজয় থাকবেই; কে জিতল আর কে হারল তা বড় বিষয় নয়। সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্ববোধ বজায় রেখে অংশগ্রহণই আসল সৌন্দর্য। বিজয়ী দলের পাশাপাশি রানার্সআপসহ অংশগ্রহণকারী সব দলকেই আন্তরিক অভিনন্দন জানাই।”
অতিথিবৃন্দের উপস্থিতি
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে গোলাপগঞ্জের বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানবৃন্দ, স্থানীয় সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত থেকে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।
দৈনিক জীবনযাত্রা