শান্তিগঞ্জে পুলিশের ওপর হামলা ও হ্যান্ডকাফ কাণ্ড: পানশী থেকে পলাতক আসিরসহ ৬ আসামি গ্রেপ্তার, পাঠানো হলো আদালতে
স্টাফ রিপোর্টার / শাহ তোফাজ্জুল হোসেন ভান্ডারী: সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জে পুলিশের ওপর হামলা (পুলিশ এসল্ট) ও হেফাজত থেকে হ্যান্ডকাফসহ আসামি ছিনতাইয়ের ঘটনায় দায়ের করা মামলার এজাহারনামীয় ছয় আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে পুলিশের হাতকড়া পরা অবস্থায় পালিয়ে যাওয়া আলোচিত আসামি আসির মিয়াও রয়েছেন।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬) শান্তিগঞ্জ থানা পুলিশের একটি দল উপজেলার পূর্ব পাগলা ইউনিয়নের দামোধরতপী গ্রামে সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে। এর আগে বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে সুনামগঞ্জ জেলা শহরের পানশী রেস্টুরেন্টে যৌথ অভিযান চালিয়ে পালিয়ে থাকা মূল আসামি আসির মিয়াকে গ্রেপ্তার করে সদর থানা ও জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ।
গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের পরিচয়
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—শান্তিগঞ্জ উপজেলার দামোধরতপী গ্রামের মৃত শফিক মিয়ার স্ত্রী আনোয়ারা বেগম, মেয়ে শাবানা বেগম, মৃত আব্দুল হাসিমের ছেলে রহমত আলী, মেয়ে আমিনা বেগম, বাচ্চু মিয়ার স্ত্রী চম্পা বেগম এবং পুলিশের হেফাজত থেকে পালিয়ে যাওয়া আসামি আসির মিয়া।
যে কারণে মামলা ও অভিযান
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২ আগস্ট শান্তিগঞ্জ থানায় দায়ের হওয়া একটি নিয়মিত জিআর মামলার পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালায়। সে সময় পুলিশের ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের আহত করা হয় এবং হাতকড়াসহ আসামি আসির মিয়াকে ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যেতে সহায়তা করে আসামিপক্ষ। এ ঘটনায় পুলিশের কাজে বাধা ও হামলার অভিযোগে পৃথক মামলা দায়ের করা হয়।
হ্যান্ডকাফসহ আসামি পালিয়ে যাওয়ার ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করলে আসামিদের ধরতে তৎপরতা বাড়ায় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী।
দুই দফা অভিযানে গ্রেপ্তার ৬
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার রাতে সুনামগঞ্জ জেলা শহরের পানশী রেস্টুরেন্টে সদর থানা পুলিশ ও ডিবির যৌথ দল ঝটিকা অভিযান চালিয়ে আসির মিয়াকে আটক করে। পরবর্তীতে তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শুক্রবার শান্তিগঞ্জ থানা পুলিশ দামোধরতপী গ্রামে অভিযান পরিচালনা করে ঘটনার সঙ্গে জড়িত আরও পাঁচ এজাহারনামীয় আসামিকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।
ওসি অলি উল্লাহর বক্তব্য
শান্তিগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. অলি উল্লাহ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, “গ্রেপ্তারকৃত ছয় আসামির বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাঁদের বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। পুলিশের ওপর হামলা ও দায়িত্ব পালনে বাধার মতো অপরাধে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। মামলার সঙ্গে জড়িত অন্য আসামিদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”
দৈনিক জীবনযাত্রা