সংসদে বক্তব্য নিয়ে ভুল বোঝাবুঝিতে হাসনাত আব্দুল্লাহর দুঃখপ্রকাশ: জুলাইয়ের বহুত্ববাদী বাংলাদেশের রূপরেখা তুলে ধরে ফেসবুকে বার্তা
জাতীয় ডেস্ক / সংসদ বিষয়ক প্রতিবেদক: জাতীয় সংসদে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড বন্ধের বিষয় নিয়ে দেওয়া বক্তব্যের প্রেক্ষিতে সৃষ্ট ভুল বোঝাবুঝির জন্য দুঃখপ্রকাশ করেছেন কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা হাসনাত আব্দুল্লাহ। একইসঙ্গে তথ্যের বিভ্রাট স্পষ্ট করে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা এবং সব মত ও বিশ্বাসের সমন্বয়ে বৈচিত্র্যময় বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন তিনি।
শনিবার (২৯ আগস্ট ২০২৬) দুপুরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক দীর্ঘ পোস্টের মাধ্যমে তিনি এ দুঃখপ্রকাশ ও অবস্থান পরিষ্কার করেন।
সংসদের বক্তব্য ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় অসন্তোষ
গত বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের কাছে দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সম্পূরক প্রশ্ন করার সময় ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড বন্ধের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন হাসনাত আব্দুল্লাহ। এ বক্তব্যের প্রতিবাদে শুক্রবার রাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদ ও বিভিন্ন মহলের উদ্যোগে ব্যাপক বিক্ষোভ মিছিল হয় এবং তাঁকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানিয়ে এনসিপির কর্মসূচি প্রতিহতের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।
ভুল বোঝাবুঝি ও তথ্যগত ত্রুটির ব্যাখ্যা
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে হাসনাত আব্দুল্লাহ তাঁর ফেসবুক বার্তায় লেখেন, “আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর জবাবদিহিতা চেয়ে সংসদে যে বক্তব্য দিয়েছিলাম, তাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝি সৃষ্টি হওয়ায় দুঃখপ্রকাশ করছি।”
তিনি কনসার্ট ও নৌকাবাইচ প্রসঙ্গ আলাদাভাবে বিশ্লেষণ করে লেখেন—
কনসার্ট বন্ধের বাস্তবতা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দাবি করেছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গান-বাজনা নিষিদ্ধের মতো পরিস্থিতি, যা মূলত মন্ত্রণালয়ের ব্যর্থতার দায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষ ও আলেম সমাজের ওপর চাপানোর শামিল। প্রকৃতপক্ষে পুলিশ লাইনে গভীর রাতে উচ্চশব্দে কনসার্ট চলায় মাদ্রাসার পরীক্ষার্থীদের পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটে। শিক্ষার্থীরা কেবল সাউন্ড কমাতে অনুরোধ করলে কথা কাটাকাটি ও পুলিশের লাঠিচার্জে শিক্ষার্থীরা আহত হন। সেখানে সাংস্কৃতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার কোনো বিষয় ছিল না।
নৌকাবাইচের স্থান বিভ্রাট: নৌকাবাইচ বন্ধের ইস্যুতে স্থান নিয়ে তথ্যগত ত্রুটি স্বীকার করে তিনি লেখেন, “সিলেটের (বিয়ানীবাজার) জায়গায় আমি সংসদে ব্রাহ্মণবাড়িয়া বলে ফেলি। এই ত্রুটিতে যে অনাকাঙ্ক্ষিত ভুল বোঝাবুঝি সৃষ্টি হয়েছে, তাতে আমি আন্তরিকভাবে বিব্রত ও দুঃখিত। সম্পূরক প্রশ্নে সময়ের সীমাবদ্ধতার কারণে বিস্তারিত তুলে ধরা সম্ভব হয়নি।”
‘জুলাইয়ের বাংলাদেশ সবার’: হাসনাত আব্দুল্লাহর রূপরেখা
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দর্শন তুলে ধরে এনসিপির এই সংসদ সদস্য বলেন, “জুলাই আমাদের একটি সর্বজনীন ও বহুত্ববাদী সমাজের স্বপ্ন দেখায়, যেখানে ধর্ম-বর্ণ-মত নির্বিশেষে সবার সমান অধিকার থাকবে এবং কেউ কারো ওপর নিজের মত চাপিয়ে দেবে না।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন, “এই বাংলাদেশ সবার—এখানে মসজিদ থাকবে, মন্দির থাকবে; সঙ্গীত থাকবে, ওয়াজ থাকবে; মাজার থাকবে, কনসার্ট হবে, মাহফিল হবে, রথযাত্রা হবে, সিনেমা উৎসব হবে, আবার বিজ্ঞ আলেমদের জ্ঞানগর্ভ আলোচনাও হবে। যার যেটা পছন্দ, সে স্বাধীনভাবে সেখানে অংশ নেবে। আর সরকারের দায়িত্ব হলো কারও মৌলিক অধিকার যেন ক্ষুণ্ন না হয় তা নিশ্চিত করা। সরকার সেই নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হলে সমতার বাংলাদেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।”
এস এম সোহাগ ফরাজী
দৈনিক জীবনযাত্রা