গোয়াইনঘাটে শিক্ষিকাকে বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণের অভিযোগ জমিয়ত নেতার বিরুদ্ধে: মাদ্রাসায় অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ, এলাকায় তোলপাড়
ডেস্ক রিপোর্ট / গোয়াইনঘাট (সিলেট) প্রতিনিধি: সিলেটের গোয়াইনঘাটে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এক মাদ্রাসাশিক্ষিকাকে ধর্ষণের অভিযোগে স্থানীয় জমিয়ত নেতা ও পশ্চিম আলীরগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হাফিজ মাওলানা আব্দুল্লাহ আল মাহফুজের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী শিক্ষিকা বর্তমানে অন্তঃসত্ত্বা বলে তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হওয়ার পাশাপাশি ঘটনাটির সঙ্গে স্থানীয় ‘ইত্তেহাদুল উম্মাহ একাডেমি’র সংশ্লিষ্টতাও প্রকাশ্যে এসেছে।
পরিচয়, প্রেম ও মাদ্রাসাকেন্দ্রীক অনৈতিক সম্পর্ক
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী বুশরা বেগম গোয়াইনঘাট বাজারস্থ ইত্তেহাদুল উম্মাহ একাডেমির একজন শিক্ষিকা হিসেবে কর্মরত ছিলেন। অভিযুক্ত মাহফুজ একাডেমিটির পরিচালক সুলতান মাহমুদের ঘনিষ্ঠ বন্ধু হওয়ায় সেখানে নিয়মিত যাতায়াত করতেন। সেই সুবাদে বুশরার সঙ্গে তাঁর পরিচয় ও প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
ভুক্তভোগীর পরিবারের অভিযোগ, একাডেমির ভবনে থাকা আবাসিক কক্ষগুলোতে মাহফুজ ও বুশরা নিয়মিত গোপনে দেখা করতেন এবং বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সেখানে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্কে জড়ান। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভেতরে এমন কর্মকাণ্ড পরিচালনায় প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক সুলতান মাহমুদের ভূমিকা ও নজরদারি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে ভুক্তভোগীর পরিবার।
অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার পর বিয়েতে অস্বীকৃতি ও তথ্য গায়েবের চেষ্টা
ভুক্তভোগীর পরিবারের দাবি, বুশরা অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ার পর মাহফুজ বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানান এবং সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ করে অন্যত্র বিয়ের প্রস্তুতি নিতে শুরু করেন। কয়েক দিন আগে মাহফুজ তাঁর বন্ধুদের নিয়ে জৈন্তাপুর এলাকায় বুশরার সঙ্গে দেখা করে তাঁর মোবাইল ফোন থেকে সম্পর্কের যাবতীয় প্রমাণ ও ডিজিটাল ডকুমেন্ট মুছে ফেলার চেষ্টা করেন এবং তাঁদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। বুশরা পরিবারকে জানান, মাহফুজ তাঁকে বিয়ে না করলে তিনি আত্মহত্যার পথ বেছে নেবেন।
সালিশে রফাদফার চেষ্টা ও তথ্য ফাঁসের অভিযোগ
বিষয়টি নিয়ে ভুক্তভোগী পরিবার গোয়াইনঘাট থানায় মামলা করতে গেলে স্থানীয় জমিয়ত নেতা ও সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মাওলানা গোলাম আম্বিয়া কয়েস মধ্যস্থতা করে আপস-মীমাংসার চেষ্টা চালান বলে জানা গেছে। তবে ভুক্তভোগী পরিবার অর্থের বিনিময়ে কোনো সমঝোতা মানতে রাজি হয়নি।
এদিকে, সমঝোতার উদ্দেশ্যে গোলাম আম্বিয়া কয়েসের কাছে জমা দেওয়া বিভিন্ন ব্যক্তিগত যোগাযোগের স্ক্রিনশট কীভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ল, তা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ভুক্তভোগীর পরিবার। তবে এ তথ্য ফাঁসের সঙ্গে কয়েসের সরাসরি সম্পৃক্ততার বিষয়ে কোনো নিরপেক্ষ প্রমাণ এখনও মেলেনি।
রাজনৈতিক মেরুকরণের গুঞ্জন
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পশ্চিম আলীরগাঁও ইউনিয়নের আসন্ন চেয়ারম্যান নির্বাচনে আব্দুল্লাহ আল মাহফুজ একজন সম্ভাব্য প্রার্থী। অপরদিকে মাওলানা গোলাম আম্বিয়া কয়েসের পরিবারের সদস্যরাও এ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার দৌড়ে রয়েছেন। ফলে নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশের বিষয়ও এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত কি না, তা নিয়ে স্থানীয় মহলে নানা গুঞ্জন চলছে।
এ বিষয়ে একাডেমি কর্তৃপক্ষ বা অভিযুক্ত মাহফুজের আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য এখনও পাওয়া যায়নি। ভুক্তভোগী পরিবার যথাযথ আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের প্রক্রিয়ায় রয়েছে।