সিলেটের কদমতলী কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকা থেকে অজ্ঞাত ব্যক্তির নিথর দেহ উদ্ধার: পরিচয় মিলেছে কিশোরগঞ্জের দুলাল মিয়ার
শাহ তোফাজ্জুল হোসেন ভান্ডারী, সিলেট প্রতিনিধি: সিলেট মহানগরীর দক্ষিণ সুরমা থানাধীন ব্যস্ততম কদমতলী বাস টার্মিনাল এলাকা থেকে দুলাল মিয়া (৪৬) নামের এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট ২০২৬) বিকেল আনুমানিক সাড়ে ৫টার দিকে টার্মিনাল চত্বরে এক ব্যক্তিকে অচেতন ও নিথর অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পথচারীরা পুলিশে খবর দেন। খবর পেয়ে দক্ষিণ সুরমা থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহটি উদ্ধার করে।
মৃত ব্যক্তির পরিচয়
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, উদ্ধার হওয়া ব্যক্তির নাম দুলাল মিয়া (৪৬)। তিনি কিশোরগঞ্জ জেলার করিমগঞ্জ থানার খিদিরপুর গ্রামের মৃত আব্দুল হাইয়ের ছেলে। তাৎক্ষণিকভাবে তাঁর কাছে থাকা বিভিন্ন কাগজপত্র ও প্রাতিষ্ঠানিক অনুসন্ধানের মাধ্যমে তাঁর সঠিক পরিচয় শনাক্ত করতে সক্ষম হয় পুলিশ।
ঘটনার বিবরণ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য
কদমতলী বাস টার্মিনাল এলাকাটি সিলেট বিভাগের অন্যতম ব্যস্ততম যোগাযোগ কেন্দ্র। প্রতিদিন হাজার হাজার যাত্রী ও পরিবহন শ্রমিক এই টার্মিনাল দিয়ে যাতায়াত করেন। স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ও পরিবহন শ্রমিকরা জানান, বৃহস্পতিবার বিকেলে হঠাৎ করেই টার্মিনালের একটি অংশে এক ব্যক্তিকে নিস্তেজ অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। প্রথমে অনেকেই তাঁকে ঘুমন্ত মনে করলেও দীর্ঘক্ষণ কোনো নড়াচড়া না থাকায় আশপাশের দোকানি ও পথচারীরা কাছে গিয়ে ডাকাডাকি করেন।
কোনো সাড়া-শব্দ না পেয়ে এবং শরীর ঠান্ডা হয়ে আসায় স্থানীয়দের মাঝে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা তাৎক্ষণিকভাবে দক্ষিণ সুরমা থানাধীন কদমতলী পুলিশ ফাঁড়িতে অবগত করেন। খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ফাঁড়ির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন এবং মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির প্রাথমিক কাজ সম্পন্ন করেন।
পুলিশ প্রশাসনের বক্তব্য ও পদক্ষেপ
ঘটনার বিষয়ে কদমতলী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মোহাম্মদ মফিজুর রহমান জানান, “স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে আমরা বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ঘটনাস্থল থেকে মরদেহটি উদ্ধার করি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তিনি স্ট্রোক বা হঠাৎ কোনো জটিল শারীরিক অসুস্থতার কারণে মারা গেছেন। তাঁর শরীরে আপাতদৃষ্টিতে কোনো দৃশ্যমান আঘাত বা জখমের চিহ্ন পাওয়া যায়নি।”
তিনি আরও জানান, মৃত ব্যক্তির পকেটে থাকা তথ্যসূত্রের মাধ্যমে তাঁর স্থায়ী ঠিকানার সন্ধান পাওয়া গেছে। কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ থানা পুলিশের মাধ্যমে নিহতের পরিবার ও নিকটাত্মীয়দের কাছে ইতোমধ্যে এই মর্মান্তিক বার্তা পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। স্বজনদের সাথে কথা বলে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে।
পুলিশ জানিয়েছে, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করার জন্য যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে। পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ বা সন্দেহ থাকলে তা তদন্ত করে দেখা হবে। পরিবারের সদস্যরা সিলেটে এসে পৌঁছালে এবং আইনি আনুষ্ঠানিকতা শেষে মরদেহটি দাফনের জন্য তাঁদের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এমন আকস্মিক মৃত্যুর ঘটনায় কদমতলী বাস টার্মিনাল এলাকার ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে সাময়িক শোকের আবহ তৈরি হয়েছে।
এস এম সোহাগ ফরাজী
দৈনিক জীবনযাত্রা