পটুয়াখালীর দুমকিতে মসজিদ থেকে তরুণ মুয়াজ্জিনের মরদেহ উদ্ধার: মৃত্যুর কারণ নিয়ে রহস্য
পটুয়াখালী প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলায় নিজ থাকার কক্ষ থেকে মো. সায়েম (২০) নামের এক তরুণ মুয়াজ্জিনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট ২০২৬) মাগরিবের নামাজের পর উপজেলার পাঙ্গাশিয়া ইউনিয়নের উত্তর পাঙ্গাশিয়া গ্রামের হাওলাদার বাড়ি বাইতুল মামুর জামে মসজিদে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত মুয়াজ্জিনের পরিচয়
নিহত মো. সায়েম পটুয়াখালী সদর উপজেলার লাউকাঠি ইউনিয়নের জামুরা গ্রামের মরহুম জব্বার মৃধার ছেলে। তিনি গত দুই বছর যাবৎ ওই মসজিদে অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে মুয়াজ্জিন হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।
মরদেহ উদ্ধার ও স্থানীয়দের ভাষ্য
স্থানীয় ও মসজিদ কমিটি সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার মাগরিবের নামাজ শেষে হাওলাদার বাড়ির মো. ইউসুফ হাওলাদার মসজিদের ভেতরে মুয়াজ্জিনের থাকার কক্ষে গিয়ে সায়েমকে অচেতন অবস্থায় মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখেন। এ সময় কক্ষের সিলিংয়ের সাথে একটি দড়ি ঝুলন্ত অবস্থায় ছিল। তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে মসজিদের বারান্দায় নিয়ে আসেন, তবে ততক্ষণে তাঁর মৃত্যু হয়।
ঘটনাস্থলে সিলিংয়ে দড়ি ঝুলতে থাকায় স্থানীয়দের একাংশের ধারণা—সায়েম গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন। তবে সায়েমের পরিবারের সদস্যরা এ দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাঁদের দাবি, এই মৃত্যুর পেছনে অন্য কোনো রহস্য থাকতে পারে। এটি পরিকল্পিত কোনো ঘটনা কি না, তা খতিয়ে দেখার জোর দাবি জানিয়েছেন স্বজনরা।
পুলিশের বক্তব্য ও পদক্ষেপ
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে দুমকি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সেলিম উদ্দীন জানান, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর আসল কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে এবং সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।