রাজধানীর মিরপুরে চায়ের দোকানে এলোপাতাড়ি গুলি: বিএনপি নেতাসহ আহত ২, নেপথ্যে সন্ত্রাসী ল্যাংড়া রুবেল বাহিনী
ক্রাইম ডেস্ক | ঢাকা
রাজধানীর মিরপুর-১১ নম্বরে দুর্বৃত্তদের অতর্কিত এলোপাতাড়ি গুলিতে এক বিএনপি নেতাসহ দুইজন গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে বিএনপি নেতাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটে শুক্রবার (৭ আগস্ট ২০২৬) বিকেলে মিরপুর ১১ নম্বর সেকশনের ‘বি’ ব্লকে।
আহতদের মধ্যে একজনের নাম আলমগীর হোসেন (৪৫)। তিনি ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (লালবাগ–নবাবগঞ্জ রোড) ২৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সদস্য এবং পেশায় পুরান ঢাকার সোয়ারীঘাটের একজন মাছের আড়তদার। অন্য আহত নারী জোসনা (৪০) স্থানীয় বাসিন্দা এবং পেশায় পথচারী; তাঁর পায়ে একটি গুলি লেগেছে। তাঁকে উদ্ধার করে স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগীর বক্তব্য:
প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা গেছে, বিকেলে আলমগীর মিরপুর ১১ নম্বরের ‘বি’ ব্লকের একটি চায়ের দোকানে বসে অন্যদের সাথে আড্ডা দিচ্ছিলেন। এ সময় একটি প্রাইভেটকার থেকে চারজন দুর্বৃত্ত নেমে আলমগীরকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়ে দ্রুত সটে পালিয়ে যায়। গুলিতে আলমগীরের মাথা ও পিঠে তিনটি গুলি লাগে।
ঢামেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আলমগীর হোসেন জানান, সপরিবারে তিনি মিরপুর ১১ নম্বরের ‘বি’ ব্লকে বসবাস করেন। হামলাকারীদের মধ্যে দুইজনকে তিনি চিনতে পেরেছেন, তারা হলেন স্থানীয় যুবলীগের রুবেল ও বাপ্পী। তবে কী কারণে তাঁর ওপর এই প্রাণঘাতী হামলা চালানো হয়েছে, তা তিনি স্পষ্ট বলতে পারেননি।
পুলিশের তদন্ত ও প্রাথমিক ধারণা:
খবর পেয়ে পল্লবী থানা পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং আলামত সংগ্রহ করে। প্রাথমিক অনুসন্ধানের ভিত্তিতে পুলিশ জানায়, মাদক ব্যবসা ও এলাকাভিত্তিক আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে চিহ্নিত সন্ত্রাসী ‘ল্যাংড়া রুবেল’-এর সাথে আলমগীরের শত্রুতা তৈরি হয়েছিল। সেই পুরোনো বিরোধের জের ধরেই এই হামলার ঘটনা ঘটে থাকতে পারে।
পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান বাসির ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, “স্থানীয় সন্ত্রাসী রুবেল ওরফে ল্যাংড়া রুবেল আলমগীরকে লক্ষ্য করে গুলি চালালে আলমগীর ও এক নারী পথচারী গুলিবিদ্ধ হন। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এবং জড়িত সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারে পুলিশের বিশেষ অভিযান ও তদন্ত চলছে।”