‘আওয়ামী রাজনীতির দাফন দিল্লিতে হয়েছে’: ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থান রোধে জাতীয় ঐক্যের আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
বিশেষ প্রতিবেদক | ঢাকা
ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ও ইস্পাতকঠিন জাতীয় ঐক্য বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
আজ শনিবার (৮ আগস্ট ২০২৬ / ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ) দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবন মিলনায়তনে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান ২০২৪’-এর দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে “ফ্যাসিস্ট সরকার পতনে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের ভূমিকা” শীর্ষক এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।
ঢাবি সাদা দল এবং ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ইউট্যাব)-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন ঢাবি সাদা দলের আহ্বায়ক ও ইউট্যাবের মহাসচিব অধ্যাপক ড. মোঃ মোর্শেদ হাসান খান। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “১৭ বছরের ধারাবাহিক গণতান্ত্রিক সংগ্রাম এবং শত-সহস্র শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত এই বিজয় কোনো একক গোষ্ঠীর চেতনা বিক্রির হাতিয়ার হতে পারে না।” ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থান রোধে উসকানিমূলক ফাঁদে পা না দিয়ে গণতান্ত্রিক চর্চা ও সহনশীলতার মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রকাঠামোর গণতান্ত্রিক সংস্কারের কাজ শেষ করার তাগিদ দেন তিনি।
আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ ও সাবেক সরকারের সমালোচনা করে মন্ত্রী বলেন, “দীর্ঘ ১৭ বছরের জুলুম-নির্যাতন, গুম-খুন ও ভোটাধিকার হরণের বিরুদ্ধে ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার পতন ঘটেছে। আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনার রাজনীতির মৃত্যু ঘটেছে ঢাকায় আর দাফন হয়েছে দিল্লিতে। ফলে চেতনা বিক্রির রাজনীতি দিয়ে আর বাংলাদেশের মানুষকে বিভ্রান্ত করা যাবে না।”
রাষ্ট্রকাঠামোর গণতান্ত্রিক সংস্কার ও সংবিধান সংশোধনের রূপরেখা তুলে ধরে সালাহউদ্দিন আহমদ ঘোষণা করেন, ভবিষ্যতে যেন কোনো নির্বাচিত সরকার স্বৈরাচারী হয়ে উঠতে না পারে, সেজন্য সংবিধানে প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সর্বোচ্চ দুই মেয়াদে সীমাবদ্ধ করার বিধান যুক্ত করা হবে। পাশাপাশি সংসদে চেক অ্যান্ড ব্যালেন্স নিশ্চিত করতে উচ্চকক্ষ গঠন করা হবে।
তরুণ সমাজ ও শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনৈতিক অপরিপক্কতার পরিচয় না দিয়ে ধৈর্য ধারণ করার আহ্বান জানান। বুয়েটসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উসকানিমূলক ফাঁদ পাতার অপচেষ্টা চলছে উল্লেখ করে তিনি সবাইকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন।
ভারতের সাথে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের নীতি পরিষ্কার করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট বার্তা দিয়ে বলেন, “বাংলাদেশের সাথে ভারতের সম্পর্ক হবে পারস্পরিক মর্যাদা ও সার্বভৌম সমতার ভিত্তিতে। ভারতের মাটিতে বসে পলাতক আসামি শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশবিরোধী বক্তব্য ও অপতৎপরতার সুযোগ দেওয়া হবে, আর অন্যদিকে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক চাওয়া হবে—এ দুটি অবস্থান সম্পূর্ণ বিপরীতমুখী।” ভারতকে ‘হাসিনা কার্ড’ খেলা বন্ধ করার আহ্বান জানান তিনি।
আলোচনা সভায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবারের সদস্যদের পক্ষ থেকে আবেগঘন অনুভূতি ব্যক্ত করেন শহীদ মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধের ভাই মীর মাহবুবুর রহমান স্নিগ্ধ, শহীদ ওয়াসিম আকরামের পিতা শফিউল আলম, শহীদ আবু সাঈদের ভাই মো. আবু হোসেন এবং শহীদ একরামুল হক সাজিদের মাতা নাজমা খাতুন লিপি।
অনুষ্ঠানে শহীদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে তাঁদের পরিবারের সদস্যদের হাতে বিশেষ সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়। সভা শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জুলাই গণঅভ্যুত্থান উপলক্ষে আয়োজিত আলোকচিত্র প্রদর্শনী পরিদর্শন করেন।
এস এম সোহাগ ফরাজী।
দৈনিক জীবন যাএা