“এদের মধ্যে বাউল শিল্পী কোনটা চিনতে পারতেছি না”: বাউল পরিবেশনা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ বারেক বৈদেশীর
দৈনিক জীবনযাত্রা ডেস্ক
প্রকাশিত: ০২ আগস্ট ২০২৬
ইদানীং বাউল গানের বিভিন্ন মঞ্চ ও ডিজিটাল আয়োজনে বাউল ধারার মূল ভাবগাম্ভীর্য হারিয়ে অপসংস্কৃতি ও বাণিজ্যকরণের ছোঁয়া লাগায় ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ বাউল সমিতির সাধারণ সম্পাদক ক্বারী বারেক বৈদেশী।
সম্প্রতি তাঁর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে বাউল আসরগুলোর অপপেশাদারিত্ব ও পুরুষ বাউলদের অনুপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
ফেসবুক স্ট্যাটাসে যা লিখেছেন তিনি
বাউলপ্রেমী ও সাধারণ শ্রোতাদের উদ্দেশে নিজের ফেসবুক ওয়ালে বারেক বৈদেশী লেখেন:
“সকল বাউল প্রেমী বন্ধুদের কাছে জিজ্ঞাসা—দেশে পুরুষ বাউল শিল্পী কি একটাও নাই? এতো গুলো মেয়ে দিয়ে আয়োজন করার কারণ কি, আমরা কি বুঝবো? এদের মধ্যে বাউল শিল্পী কোনটা কেও কি বলতে পারেন? আমি চিনতে পারতেছি না, কার ও জানা থাকলে আমাকে দয়া করে বলবেন।”
ক্ষোভের কারণ ও প্রেক্ষাপট
বারেক বৈদেশীর এই স্ট্যাটাসের পর বাউল অনুরাগী ও সাধারণ নেটিজেনদের মধ্যে ব্যাপক চর্চা শুরু হয়েছে। মূলত বর্তমানে অনেক আয়োজক ও ইউটিউব ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান প্রকৃত বাউল সাধনা ও দর্শনকে পাশে সরিয়ে রেখে স্রেফ ভিউ ও ব্যবসায়িক স্বার্থে অদক্ষ কিংবা বাউল ধারার সাথে সম্পর্কহীন শিল্পীদের এনে চমক সৃষ্টির চেষ্টা করছে।
প্রবীণ ও গুণী পুরুষ বাউলদের বাদ দিয়ে কিংবা বাউল গানের পোশাক-আচরণবিধি না মেনে যেভাবে পরিবেশনা চালানো হচ্ছে, তাতে সাধারণ শ্রোতাদের কাছে বাউল সংস্কৃতির ভুল বার্তা যাচ্ছে বলেই মত প্রকাশ করছেন গুণীজনেরা।
বাউল সমিতির সাধারণ সম্পাদকের এমন প্রশ্ন তোলার মাধ্যমে এটিই স্পষ্ট যে, বাংলার ঐতিহ্যবাহী ও আধ্যাত্মিক বাউল সংস্কৃতিকে বাণিজ্যিক বিকৃতি থেকে রক্ষা করতে এখন খোদ বাউল সংগঠনের শীর্ষ পর্যায় থেকেও সোচ্চার হওয়ার সময় এসেছে।
এস এম সোহাগ ফরাজী