চাঁদেপুরের বাহাসে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের জয়: জানাজার পর দোয়ার পক্ষে রায়
বিশেষ প্রতিনিধি:
চাঁদপুরের মহামায়া-রামপুর এলাকায় জানাজার নামাজের পর দাফনের পূর্বে দোয়া-মোনাজাত করাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট মতবিরোধের অবসান ঘটেছে। স্থানীয়ভাবে আয়োজিত এক দ্বিপক্ষীয় বাহাসে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের আলেমদের উপস্থাপিত দলিল-প্রমাণের ভিত্তিতে জানাজার পর দোয়া-মোনাজাতকে ‘মুস্তাহাব’ হিসেবে রায় দিয়েছেন বিচারকমণ্ডলী।
ঘটনার পটভূমি ও উদ্যোগ
সম্প্রতি চাঁদপুর জেলার রামপুর এলাকায় জানাজার নামাজ শেষে দাফনের পূর্বে দোয়া-মোনাজাত করা শরীয়তসম্মত কি না—এ নিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে তীব্র আলোচনা-সমালোচনা ও দ্বিমত দেখা দেয়।
পরিস্থিতি নিরসনে মহামায়া রামপুর আদর্শ আলিম মাদরাসার অধ্যক্ষ আলহাজ মাওলানা আবু জাফর মুহাম্মদ মঈনুদ্দিন দুই পক্ষকে নিয়ে একটি যুক্তিতর্ক বা বাহাস বৈঠকের উদ্যোগ নেন। স্থানীয় ৫ নং রামপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আল মামুন পাটওয়ারী-এর সার্বিক সহযোগিতায় ইউনিয়ন পরিষদ মিলনায়তনে এ বাহাসের আয়োজন করা হয়। উভয় পক্ষ থেকে পাঁচজন করে আলেম প্রতিনিধি নির্ধারণ করা হয়।
বাহাসের বিবরণ ও আলোচনা
গত ১৮ জুলাই দুপুর ১২টায় রামপুর ইউনিয়ন পরিষদ মিলনায়তনে আনুষ্ঠানিকভাবে বাহাস শুরু হয়। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন ৫ নং রামপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আল মামুন পাটওয়ারী।
আলোচনার মূল বিষয়বস্তু ছিল: “জানাজার নামাজের পর দোয়া-মোনাজাত করা মুস্তাহাব।”
মোনাজাতের পক্ষে (আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআত):
পক্ষে মুরব্বি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অধ্যক্ষ আল্লামা মুফতী যাকারিয়া চৌধুরী আল-মাদানী এবং অধ্যক্ষ আল্লামা মুফতী ড. এ. কে. এম. মাহবুবুর রহমান। মুনাযির বা বক্তা হিসেবে অংশ নেন আল্লামা মুফতী রুহুল আমীন মানসুরী, আল্লামা মুফতী আবদুর রব আল-কাদেরী, আল্লামা মুফতী মুহাম্মাদ শাহ আলম, মুফতী ড. খাজা বাকী বিল্লাহ মিশকাত চৌধুরী এবং আল্লামা মুফতী সৈয়দ যাকারিয়া উদ্দীন জিলানী।
মোনাজাতের বিপক্ষে:
বিপক্ষের নির্ধারিত পাঁচজন প্রতিনিধির মধ্যে মাওলানা হারুনুর রশিদ ও মাওলানা সিফাত উল্লাহ—এই দুজন উপস্থিত ছিলেন; বাকি তিনজন অনুপস্থিত ছিলেন।
দলিল উপস্থাপন ও সিদ্ধান্ত
বাহাস চলাকালে বিপক্ষের প্রতিনিধিরা মোনাজাতের বিরুদ্ধে কিছু হাদিসের ব্যাখ্যা তুলে ধরেন। তবে আহলে সুন্নাতের মুনাযিরগণ তাদের উপস্থাপিত ব্যাখ্যার স্বপক্ষে নির্ভরযোগ্য গ্রন্থ, মুহাদ্দিসগণের মতামত ও রেফারেন্স দেখতে চাইলে তারা তা প্রদানে ব্যর্থ হন এবং নিজেদের ঘাটতির কথা স্বীকার করেন।
অন্যদিকে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের আলেমরা ফিকহ, উসূলুল ফিকহ এবং সহীহ বুখারীসহ অন্যান্য হাদিসের প্রামাণিক উদ্ধৃতি দিয়ে জানাজার নামাজের পর দোয়া-মোনাজাত মুস্তাহাব হওয়ার বিষয়টি জোরালোভাবে উপস্থাপন করেন।
উভয় পক্ষের বক্তব্য ও উপস্থাপন শেষে বিচারকমণ্ডলী আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের পেশ করা দলিলসমূহকে শরীয়তসম্মত ও গ্রহণযোগ্য হিসেবে ঘোষণা করেন এবং জানাজার পর দোয়া-মোনাজাত করা ‘মুস্তাহাব’ মর্মে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রদান করেন।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠান
বাহাসে বিজয় অর্জনের পর বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট চাঁদপুর জেলা শাখার কার্যালয়ে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের প্রতিনিধি ও আলেমদের সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। এ সময় জেলা ও স্থানীয় পর্যায়ের অসংখ্য বিশিষ্ট ওলামায়ে কেরাম ও ধর্মপ্রাণ মুসলমান উপস্থিত ছিলেন।
দৈনিক জীবন যাত্রা
প্রকাশক ও সম্পাদক: এস এম সোহাগ ফরাজী