নারী মরদেহের ময়নাতদন্তে নারী ডোম নিয়োগের নির্দেশ কেন নয়: হাইকোর্টের রুল
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা | ১৯ জুলাই, ২০২৬
নারী মরদেহের ময়নাতদন্ত বা পোস্টমর্টেমের ক্ষেত্রে নারী ডোম নিয়োগের কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। রোববার (১৯ জুলাই) বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রুল জারি করেন।
রিটের প্রেক্ষাপট
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. মনির উদ্দিন জনস্বার্থে এই রিট আবেদনটি দায়ের করেন। রিটে স্বাস্থ্য সচিব ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ সংশ্লিষ্টদের বিবাদী করা হয়েছে। এর আগে, দেশের প্রতিটি হাসপাতালে অন্তত একজন করে নারী ডোম নিয়োগের জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে আবেদন করেছিলেন ওই আইনজীবী। কিন্তু সেই আবেদনের কোনো সাড়া না পাওয়ায় তিনি হাইকোর্টের শরণাপন্ন হন।
আবেদনের যৌক্তিকতা
রিট আবেদনে আইনজীবী উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ একটি ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধ সম্পন্ন রাষ্ট্র। ইসলামসহ সব ধর্মেই নারীর মৃতদেহ পর্দার অন্তরালে রাখার বিধান রয়েছে। ময়না তদন্ত একটি আইনি প্রক্রিয়া হলেও, এক্ষেত্রে পর পুরুষের স্পর্শ বা উপস্থিতি ধর্মীয় ও সামাজিক মর্যাদার পরিপন্থী।
আবেদনে আরও বলা হয়েছে:
মর্যাদা ও গোপনীয়তা: মৃত নারীর পরিবারের সদস্যরা এমনিতেই মানসিকভাবে বিপর্যস্ত থাকেন। পরিবারের প্রিয় সদস্যের ময়নাতদন্ত পুরুষ ডোম দ্বারা সম্পন্ন হওয়া তাদের জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক। নারী ডোম নিয়োগ করলে মৃত নারীর গোপনীয়তা ও মর্যাদা রক্ষা পাবে।
সুরক্ষা নিশ্চিত করা: অতীতে মর্গে পুরুষ ডোমদের দ্বারা মৃত নারীর সাথে অনাকাঙ্ক্ষিত ও বিকৃত যৌনাচারের মতো ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটেছে। ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ এবং সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের মর্গে সংঘটিত এ জাতীয় অপরাধের তথ্য গণমাধ্যমে উঠে এসেছে। আধুনিক সমাজ ব্যবস্থায় নারীর মৃতদেহের সুরক্ষা নিশ্চিত করা সময়ের দাবি।
মানবাধিকার ও বৈষম্য নিরসন: আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সনদ অনুযায়ী, মৃত্যুর পরও একজন মানুষের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও সম্মানের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।
আইনজীবী মনির উদ্দিন জানান, শুধুমাত্র বাংলাদেশে নয়, বিদেশেও মর্গ রক্ষীদের দ্বারা মৃত নারীর সঙ্গে বিকৃত যৌনাচারের মতো ঘটনা ঘটেছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তাই দেশের প্রতিটি হাসপাতালে নারী ডোম নিয়োগ এবং মৃত নারীর সম্ভ্রম রক্ষায় যথাযথ আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা থেকেই এই রিট দায়ের করা হয়েছে।
এস এম সোহাগ ফরাজী