ফুটবল মাঠে অন্যরকম মানবিকতা: ইসরায়েল ম্যাচের টিকিট বিক্রির সব অর্থ গাজায় দান করলো নরওয়ে!
স্পোর্টস ডেস্ক | দৈনিক জীবনযাত্রা:
ফুটবল মাঠে টিকিট বিক্রির পুরো অর্থ যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজাসহ পৃথিবীর বিভিন্ন সংঘাতপ্রবণ অঞ্চলের মানুষের মানবিক চিকিৎসাসেবায় দান করে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে নরওয়ে ফুটবল ফেডারেশন (এনএফএফ)।
২০২৬ বিশ্বকাপের ইউরোপীয় অঞ্চলের বাছাইপর্বে ইসরায়েলের বিপক্ষে অনুষ্ঠিত একটি ম্যাচের টিকিট বিক্রি থেকে সংগৃহীত সমস্ত লভ্যাংশ আন্তর্জাতিক চিকিৎসাসেবা সংস্থা ‘ডক্টরস উইদাউট বর্ডারস’ (এমএসএফ)-এর তহবিলে হস্তান্তর করেছে তারা। ওসলোর মাঠে অনুষ্ঠিত ওই ম্যাচে ইসরায়েলকে ৫-০ গোলের বড় ব্যবধানে বিধ্বস্ত করেছিল নরওয়ে।
জীবন রক্ষায় নরওয়ের বিশেষ উদ্যোগ
নরওয়ে ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি লিসা ক্লাভেনেস আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ‘অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস’-কে দেওয়া এক বিবৃতিতে এই মানবিক উদ্যোগের কথা নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন,
“চলমান বৈশ্বিক সংকটের প্রেক্ষাপটে যুদ্ধের শিকার সাধারণ ও নিরীহ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মানবিক দায়িত্ববোধ থেকেই আমরা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এই অর্থ এমন একটি সংস্থার হাতে তুলে দেওয়া জরুরি ছিল, যারা গাজায় প্রতিদিন প্রতিকূলতার মাঝেও মানুষের জীবন রক্ষার কাজ করছে এবং সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রে চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিচ্ছে। বিশেষ করে গাজায় বেসামরিক মানুষের ওপর চলমান হামলা ও মানবিক বিপর্যয়ের প্রতি আমরা কোনোভাবেই নির্লিপ্ত থাকতে পারি না।”
যুক্ত হয়েছে করপোরেট অনুদানও
ফুটবল ম্যাচের টিকিট বিক্রির বিশাল অঙ্কের অর্থের পাশাপাশি নরওয়ের একটি খ্যাতনামা বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠানও এই মহৎ তহবিলে অতিরিক্ত ৩০ লাখ নরওয়েজিয়ান ক্রোনার (যা প্রায় ৩ লাখ ৫ হাজার মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ) অনুদান দেওয়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মানবিক সহায়তায় নরওয়ের অবদান অবশ্য দীর্ঘদিনের। বিভিন্ন সংকটপূর্ণ অঞ্চলে সহায়তার পাশাপাশি ব্রাজিলের বন ও পরিবেশ সংরক্ষণে গঠিত ‘অ্যামাজন ফান্ড’-এর অন্যতম প্রধান অর্থদাতা দেশও এই নরওয়ে।
মাঠের পারফরম্যান্সেও উজ্জ্বল ‘ভাইকিংসরা’
কেবল মাঠের বাইরে মানবিকতাতেই নয়, ২০২৬ সালের এই বিশ্বকাপে মাঠের পারফরম্যান্সেও বিশ্বজুড়ে আলো ছড়িয়েছে আর্লিং হলান্ডের নরওয়ে। নকআউট পর্বের শেষ ৩২-এর লড়াইয়ে আইভরি কোস্টকে ২-১ গোলে পরাজিত করে তারা। এরপর শেষ ষোলোর মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে শক্তিশালী ব্রাজিলকে ২-০ গোলে হারিয়ে আসরের সবচেয়ে বড় চমক দেখায় ‘ভাইকিংসরা’। পরবর্তীতে কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডের কাছে ২-১ গোলে হেরে বিদায় নিলেও ফুটবলপ্রেমীদের মন জয় করে নিয়েছে নরওয়েজিয়ানরা।