সিলেট সদরে মাদ্রাসা ছাত্রকে বলাৎকারের শিকার: অধ্যক্ষ শিব্বির আহমদের শাস্তির দাবিতে বিশাল মানববন্ধন
শাহ তোফাজ্জুল হোসেন ভান্ডারী, সিলেট প্রতিনিধি | দৈনিক জীবনযাত্রা:
সিলেট সদর উপজেলার মাসুকগঞ্জ বাজার এলাকার বাদেআলী গুচ্ছগ্রাম মাদ্রাসার ১৫ বছর বয়সী এক ছাত্রকে বলাৎকারের ঘটনায় লম্পট অধ্যক্ষ মাওলানা শিব্বির আহমদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিশাল মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল ১০ জুলাই (শুক্রবার) মাসুকগঞ্জ বাজার এলাকাবাসীর যৌথ উদ্যোগে স্থানীয় বাজারে এই মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়।
মানববন্ধন কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন—এলাকার বিশিষ্ট মুরুব্বি ও সাবেক ইউপি সদস্য আজম আলী, বিশিষ্ট মুরুব্বি সার্ভেয়ার রফিক আহমদ, বিশিষ্ট মুরুব্বি আব্দুস শহিদ এবং বিশিষ্ট মুরুব্বি মোঃ জসিম উদ্দিন প্রমুখ। বক্তারা ধর্মীয় লেবাসধারী এই লম্পট শিক্ষকের সর্বোচ্চ শাস্তি ও ফাঁসির দাবি জানান, যাতে ভবিষ্যতে কোনো পবিত্র শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এমন জঘন্য অপরাধ করার সাহস কেউ না পায়।
যেভাবে প্রকাশ পেল অধ্যক্ষের জঘন্য কীর্তি
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ৪ জুলাই সিলেটের সদর উপজেলার বাদেআলী গুচ্ছগ্রাম মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা শিব্বির আহমদ মাদ্রাসার পশ্চিম দর্শা গ্রামের ১৫ বছর বয়সী ছাত্র ইমনকে (ছদ্মনাম) কৌশলে তার খাস কামরায় ডেকে নেন। সেখানে তিনি ওই ছাত্রের ওপর জোরপূর্বক সমকামিতা ও পাশবিক নির্যাতন (বলাৎকার) চালান।
লম্পট অধ্যক্ষের নির্যাতনের শিকার হয়ে মাদ্রাসা ছুটির পর ভুক্তভোগী ছাত্রটি কান্নায় ভেঙে পড়ে এবং বাড়িতে গিয়ে তার অভিভাবকদের কাছে পুরো বিষয়টি খোলে বলে। ঘটনা শুনে ইমনের বাবা ক্ষোভে ও দুঃখে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গকে বিষয়টি অবহিত করেন। পরে এলাকাবাসীকে সাথে নিয়ে তিনি মাদ্রাসায় উপস্থিত হন এবং তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি জালালাবাদ থানা পুলিশকে জানান।
অভিযুক্ত অধ্যক্ষ বর্তমানে জেলহাজতে
খবর পেয়ে জালালাবাদ থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত প্রিন্সিপাল মাওলানা শিব্বির আহমদকে হাতেনাতে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। পরবর্তীতে ভুক্তভোগী ছাত্রের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় একটি সুনির্দিষ্ট মামলা দায়ের করা হলে পুলিশ আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করে।
এলাকাবাসী জানান, এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার পর থেকে পুরো মাসুকগঞ্জ বাজার ও আশপাশের এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। মাদ্রাসার মতো একটি পবিত্র স্থানে অবুঝ শিশুর ওপর এমন পাশবিক নির্যাতনের ঘটনায় জড়িত এই শিক্ষকের দ্রুততম সময়ে কঠোর বিচার নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানানো হয়েছে।
সম্পাদক প্রকাশ।
এস এম সোহাগ ফরাজী