পাহাড়ধসের চরম আশঙ্কা: চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রামসহ ৫ জেলায় ৩০০ মিমি পর্যন্ত অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস
আবহাওয়া ডেস্ক, দৈনিক জীবনযাত্রা:
দেশের ওপর সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রবল প্রভাবের কারণে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও তিন পার্বত্য জেলাসহ দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে প্রাকৃতিক দুর্যোগের মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। আজ ১১ জুলাই থেকে আগামীকাল ১২ জুলাই (২০২৬) পর্যন্ত এই সময়কালে চট্টগ্রাম ও পার্বত্য অঞ্চলের জেলাগুলোতে রেকর্ড পরিমাণ ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের তীব্র সম্ভাবনা রয়েছে। একই সাথে অতি বৃষ্টির জেরে পাহাড়ের মাটি ধসে বড় ধরনের পাহাড়ধস বা ভূমিধ্বসের (Landslide) চরম সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
আবহাওয়া ও গাণিতিক মডেলের সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুযায়ী, এই দুই দিনে উল্লিখিত জেলাসমূহের কোথাও কোথাও মোট ১০০ থেকে ৩০০ মিলিমিটার (মিমি) পর্যন্ত উপরিউক্ত রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিপাত হতে পারে।
ভূমিধ্বসের ঝুঁকিতে ৫ জেলা
টানা অতি ভারী বর্ষণের ফলশ্রুতিতে ৫টি সুনির্দিষ্ট জেলার পাহাড়ি ও অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ ঢালু এলাকায় ভূমিধ্বসের প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। ঝুঁকিতে থাকা জেলাগুলো হলো:
১. কক্সবাজার
২. বান্দরবান
৩. চট্টগ্রাম
৪. রাঙ্গামাটি
৫. খাগড়াছড়ি
বিশেষ করে পাহাড়ের পাদদেশে বা ঢালু জায়গায় যারা ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাস করছেন, তাদের অনতিবিলম্বে নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে বা সমতলে সরে যাওয়ার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হচ্ছে।
গত ২৪ ঘণ্টার উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাত
গত ২৪ ঘণ্টায় (১০ জুলাই সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত) দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে ইতিমধ্যেই উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা মাটিকে নরম ও ধসপ্রবণ করে তুলেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হয়েছে:
চট্টগ্রাম: ১১৯ মিলিমিটার
বান্দরবান: ১০৫ মিলিমিটার
কক্সবাজার: ৫৬ মিলিমিটার
পাহাড় কাটা বন্ধ ও প্রশাসনিক প্রস্তুতি
ইতিমধ্যেই পাহাড় কাটার কারণে এই অঞ্চলগুলোর পাহাড়ি ভারসাম্য নষ্ট হওয়ায় অল্প বৃষ্টিতেই ধসের ঘটনা ঘটছে। স্থানীয় প্রশাসন, জেলা প্রশাসন ও ফায়ার সার্ভিসকে যেকোনো জরুরি উদ্ধারকাজের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পাহাড়ি এলাকার বাসিন্দাদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার এবং যেকোনো প্রয়োজনে স্থানীয় কন্ট্রোল রুমে যোগাযোগ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এস এম সোহাগ ফরাজী