মসজিদের দেশ বাংলাদেশ: সাড়ে ৩ লাখেরও বেশি মসজিদ নিয়ে শীর্ষে ঢাকা বিভাগ
ধর্মীয় প্রতিবেদক | দৈনিক জীবনযাত্রা
প্রকাশ: ০৯ জুলাই, ২০২৬
ঢাকা:
বাংলাদেশ পৃথিবীর অন্যতম বৃহৎ মুসলিম প্রধান রাষ্ট্র। এ দেশের প্রতিটি শহর, গ্রাম, পাড়া এবং মহল্লায় ইসলামের সুমহান বাণী ছড়িয়ে দিচ্ছে অসংখ্য মসজিদ। আর এ কারণেই বাংলাদেশকে বিশ্বমঞ্চে ‘মসজিদের দেশ’ বা ‘মসজিদের নগরী’ হিসেবে অভিহিত করা হয়।
সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন তথ্য এবং সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বর্তমানে বাংলাদেশে মোট মসজিদের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৫০ হাজার ৪৬৫টি। দেশের আটটি বিভাগে ছড়িয়ে থাকা এই বিপুল সংখ্যক মসজিদের বিভাগওয়ারী একটি সুনির্দিষ্ট চিত্র উঠে এসেছে, যেখানে সর্বাধিক মসজিদ নিয়ে প্রথম স্থানে রয়েছে রাজধানী ঢাকা বিভাগ।
বিভাগওয়ারী মসজিদের সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যান
পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ভৌগোলিক অবস্থান, জনসংখ্যার ঘনত্ব এবং ধর্মীয় ঐতিহ্যের ওপর ভিত্তি করে বিভিন্ন বিভাগে মসজিদের সংখ্যায় কিছুটা তারতম্য রয়েছে। নিচে বাংলাদেশের আটটি বিভাগের মোট মসজিদের সংখ্যা ছকের মাধ্যমে তুলে ধরা হলো:
ক্রমিকবিভাগের নামমোট মসজিদের সংখ্যা (টি)
০১ঢাকা বিভাগ৭১,৫৯৬
০২চট্টগ্রাম বিভাগ৬৩,৭০৩
০৩রাজশাহী বিভাগ৪৫,৮৭৯
০৪রংপুর বিভাগ৪৫,৭৯২
০৫বরিশাল বিভাগ৩৫,৬৯১
০৬খুলনা বিভাগ৩৪,৫৮৬
০৭ময়মনসিংহ বিভাগ৩১,২১২
০৮সিলেট বিভাগ২২,০০৬
মোটসারাদেশে সর্বমোট মসজিদ = ৩,৫০,৪৬৫
পরিসংখ্যানের মূল দিকগুলো
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, দেশের একক বিভাগ হিসেবে সবচেয়ে বেশি মসজিদ রয়েছে ঢাকা বিভাগে (৭১,৫৯৬টি)। প্রশাসনিক কেন্দ্রবিন্দু এবং বিশাল জনসংখ্যার কারণে এই বিভাগে মসজিদের ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি। এর ঠিক পরেই দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ওলি-আউলিয়ার পুণ্যভূমি এবং প্রাচীন বাণিজ্যিক কেন্দ্র চট্টগ্রাম বিভাগ, যেখানে মসজিদের সংখ্যা ৬৩,৭০৩টি।
উত্তরাঞ্চলের দুই বিভাগ রাজশাহী (৪৫,৮৭৯টি) এবং রংপুর (৪৫,৭৯২টি) প্রায় সমান সংখ্যক মসজিদ নিয়ে তালিকার তৃতীয় ও চতুর্থ স্থানে রয়েছে। অন্যদিকে, দেশের সবচেয়ে কম মসজিদ রয়েছে আধ্যাত্মিক রাজধানী খ্যাত শাহজালালের স্মৃতিবিজড়িত সিলেট বিভাগে (২২,০০৬টি)। তবে ভৌগোলিক আয়তন ও জনসংখ্যার অনুপাতে এই সংখ্যাও বেশ তাৎপর্যপূর্ণ।
সামাজিক ও ধর্মীয় গুরুত্ব
ইসলামিক ফাউন্ডেশন ও সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, এই সাড়ে তিন লাখেরও বেশি মসজিদ কেবল নামাজ আদায়ের স্থান হিসেবেই নয়, বরং দেশের সামাজিক সম্প্রীতি, নৈতিক শিক্ষা এবং জনসচেতনতা তৈরির অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হিসেবে কাজ করছে। প্রতিদিন লাখ লাখ মানুষ এই মসজিদগুলোতে সমবেত হন। প্রতি শুক্রবারে জুমার খুতবার মাধ্যমে সমাজ থেকে কুসংস্কার, মাদক, উগ্রবাদ এবং অপরাধ দূরীকরণে ইমাম ও খতিবরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন। এই বিপুল সংখ্যক ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ ও আধুনিকায়ন দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে বড় অবদান রাখতে পারে।
এস এম সোহাগ ফরাজী