সিলেটে মাদ্রাসা ছাত্রকে বলাৎকারের অভিযোগ: প্রিন্সিপাল মাওলানা শিব্বির আহমদ গ্রেপ্তার
শাহ্ তোফাজ্জল হোসেন ভানডারী। সিলেট প্রতিনিধি । দৈনিক জীবনযাত্রা
প্রকাশ: ০৮ জুলাই, ২০২৬
সিলেট: সিলেটের জালালাবাদ থানা এলাকায় এক আবাসিক মাদ্রাসা ছাত্রকে (১৫) ভয়ভীতি দেখিয়ে একাধিকবার বলাৎকারের অভিযোগে ‘জামেয়া ইসলামীয়া দারুস সুন্নাহ মাদ্রাসা ও এতিমখানা’র প্রতিষ্ঠাতা প্রিন্সিপাল মাওলানা শিব্বির আহমদকে (৫০) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর বাবার দায়ের করা মামলার পরিপ্রেক্ষিতে তাকে গ্রেপ্তার করে আজ বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
এই ন্যক্কারজনক ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয় এলাকাবাসী ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় বইছে। মাদারীপুর অঞ্চলের বাসিন্দা মাওলানা শিব্বির আহমদ দীর্ঘদিন ধরে সিলেটের জালালাবাদ থানার আওতাধীন ওই মাদ্রাসাটি পরিচালনা করে আসছিলেন।
ভয়ভীতি দেখিয়ে একাধিকবার নির্যাতন
মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী ১৫ বছর বয়সী ওই কিশোর মাদ্রাসাটির একজন নিয়মিত আবাসিক শিক্ষার্থী ছিল। প্রিন্সিপাল মাওলানা শিব্বির আহমদ বিভিন্ন সময়ে ধর্মীয় ও প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষমতার অপব্যবহার করে এবং মাদ্রাসার ভেতরেই ভয়ভীতি প্রদর্শন করে ওই শিক্ষার্থীকে একাধিকবার জোরপূর্বক শারীরিক ও যৌন নির্যাতন চালান।
লজ্জা, ভয় এবং লোকলজ্জার কারণে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী প্রথমে বিষয়টি কাউকে জানাতে পারেনি। তবে সম্প্রতি নির্যাতনের মাত্রা আরও বেড়ে গেলে এবং শারীরিক অসুস্থতা দেখা দিলে ওই ছাত্র বিষয়টি তার পরিবারকে বিস্তারিত জানায়। সন্তানের মুখে এই লোমহর্ষক নির্যাতনের বিবরণ শুনে পরিবারটি ভেঙে পড়ে এবং তাৎক্ষণিকভাবে আইনের আশ্রয় নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
বাবার মামলা ও পুলিশের দ্রুত পদক্ষেপ
সন্তানের ওপর এমন নির্মম নির্যাতনের বিচার চেয়ে ভুক্তভোগী ছাত্রের বাবা বাদী হয়ে জালালাবাদ থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করেন। মামলার সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে জালালাবাদ থানা পুলিশ কালক্ষেপণ না করে দ্রুত আভিযানিক দল পাঠিয়ে মাদ্রাসা প্রাঙ্গণ থেকে অভিযুক্ত প্রিন্সিপাল মাওলানা শিব্বির আহমদকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।
আজ বুধবার (৮ জুলাই) দুপুরে পুলিশ আসামিকে কড়া পাহারায় সিলেটের বিজ্ঞ আদালতে হাজির করলে বিজ্ঞ বিচারক শুনানি শেষে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। অন্যদিকে, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য তাকে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (OCC) পাঠানো হয়েছে বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে।
কঠোর শাস্তির দাবি এলাকাবাসীর
পবিত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এমন অনৈতিক ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় সচেতন মহল এবং মাদ্রাসার অন্যান্য শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের মাঝে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। এলাকাবাসী অবিলম্বে এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে দোষী মাওলানা শিব্বির আহমদের সর্বোচ্চ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন, যাতে ভবিষ্যতে কোনো ধর্মীয় বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিশুদের সুরক্ষার অবমাননা করার সাহস কেউ না পায়।
এস এম সোহাগ ফরাজী