সিলেট প্রতিনিধি | শাহ তোফাজ্জুল হোসেন ভান্ডারী
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলায় জাতীয় দৈনিক কালবেলা ও বাংলা টিভি-এর জগন্নাথপুর উপজেলা প্রতিনিধি এবং জগন্নাথপুর প্রেসক্লাবের কার্যকরী নির্বাহী কমিটির সদস্য সাংবাদিক গোবিন্দ দেব-এর ওপর শ্বাসরোধ করে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তিনি বাদী হয়ে জগন্নাথপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ (এজাহার) দায়ের করেছেন।
অভিযোগে মিরপুর ইউনিয়নের লহরী গ্রামের মৃত মনোরঞ্জন দেবনাথের ছেলে কালী রঞ্জন দেবনাথ (৪৫)-কে প্রধান অভিযুক্ত করা হয়েছে। অভিযোগে আরও ২ থেকে ৩ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির সম্পৃক্ততার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সাংবাদিক গোবিন্দ দেব দীর্ঘ প্রায় ২০ বছর ধরে জগন্নাথপুরে পেশাদার সংবাদকর্মী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর দাবি, অভিযুক্ত কালী রঞ্জন দেবনাথ দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা ও মানহানিকর বক্তব্য প্রচার করে আসছিলেন। অভিযোগে আরও বলা হয়, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে অতীতে বিভিন্ন অনিয়ম ও বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে।
লিখিত অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২ জুলাই ২০২৬ রাত আনুমানিক ৮টাের দিকে গোবিন্দ দেব তাঁর মামাতো ভাই লিটন দেবকে সঙ্গে নিয়ে জগন্নাথপুর উপজেলা পরিষদ রোডে অবস্থিত ‘মা কম্পিউটার’ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও সংবাদকর্মীর অফিস বন্ধ করে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে বাসুদেব বাড়ি পাড়ায় পৌঁছালে পূর্ব থেকে ওত পেতে থাকা মুখোশধারী এক ব্যক্তি পেছন থেকে তাঁর গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধের চেষ্টা করেন। এ সময় হামলাকারী তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি দেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
গোবিন্দ দেবের চিৎকারে তাঁর সঙ্গে থাকা লিটন দেবসহ আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা তাঁর শার্টের পকেটে থাকা ৫ হাজার টাকা নগদ অর্থ এবং প্রায় ২ হাজার টাকা মূল্যের একটি বাটন মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পালিয়ে যাওয়ার সময় অভিযুক্তরা আবারও হত্যার হুমকি দেয় বলেও এজাহারে উল্লেখ রয়েছে।
স্থানীয়দের সহায়তায় আহত গোবিন্দ দেবকে জগন্নাথপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। ঘটনার পর থেকে তিনি ও তাঁর পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে জগন্নাথপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শফিকুল ইসলাম বলেন, “অভিযোগটি পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।”
এদিকে, কর্মরত সাংবাদিক ও সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দ এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে তাদের বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রকাশ করা হবে।