কুষ্টিয়া পীর শামীম হত্যা মামলায় জামায়াতের রোকনসহ ২ আসামি কারাগারে
কুষ্টিয়া প্রতিনিধি:
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে দরবার শরিফে হামলা চালিয়ে পীর আবদুর রহমান শামীমকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত প্রধান আসামিসহ দুইজনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।
কারাগারে পাঠানো দুই আসামি হলেন—প্রধান আসামি কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি ও দৌলতপুর উপজেলা জামায়াতের রোকন খাজা আহমেদ এবং খেলাফত মজলিসের দৌলতপুর উপজেলা সভাপতি আসাদুজ্জামান।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) দুপুরে কুষ্টিয়া জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক এনায়েত কবির তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
আদালত পুলিশের পরিদর্শক জহিরুল ইসলাম বিষয়টি দ্য ডেইলি স্টার-কে নিশ্চিত করেছেন।
জানা যায়, গত ১১ এপ্রিল দুপুরে দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগর এলাকায় একটি দরবার শরিফে হামলা চালিয়ে পীর আবদুর রহমান শামীমকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করা হয়। এ সময় দরবার শরিফে ব্যাপক ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে।
এ ঘটনায় ১৩ এপ্রিল নিহতের ভাই ফজলুর রহমান বাদী হয়ে দৌলতপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় খাজা আহমেদ, আসাদুজ্জামান, স্থানীয় জামায়াত কর্মী রাজিব মিস্ত্রি এবং ইসলামপুর গ্রামের বাসিন্দা মো. শিহাবের নাম উল্লেখ করে আরও ১৮০ থেকে ২০০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়।
আদালত পুলিশের পরিদর্শক জহিরুল ইসলাম জানান, খাজা আহমেদ ও আসাদুজ্জামান হাইকোর্ট থেকে ছয় সপ্তাহের অন্তর্বর্তীকালীন জামিনে ছিলেন। জামিনের মেয়াদের শেষ দিন মঙ্গলবার তারা নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করে পুনরায় জামিন আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত তাদের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এদিকে, পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, প্রথম দফার হামলায় প্রায় ৭০ থেকে ৮০ জন অংশ নেন এবং ভাঙচুরে সরাসরি অংশগ্রহণ করেন ৭ থেকে ৮ জন। পরে দ্বিতীয় দফায় স্থানীয় একটি মাদ্রাসার কয়েকশ শিক্ষার্থী হামলায় যোগ দেয় বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
পুলিশ সূত্রে আরও জানা যায়, যেসব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আইডি ও পেজ থেকে ভিডিও ছড়িয়ে হামলার উসকানি দেওয়া হয়েছিল, সেগুলোর কয়েকটির অ্যাডমিনের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি সিসিটিভি ফুটেজ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও বিশ্লেষণ করে হামলা ও ভাঙচুরে জড়িত আরও কয়েকজনকে শনাক্ত করেছে পুলিশ।
দৈনিক জীবন যাএা
এস এম সোহাগ ফরাজী