ভারতের ট্যুরিস্ট ভিসা আবার চালু, বাংলাদেশিদের অপেক্ষায় কলকাতার ব্যবসায়ীদের নতুন আশা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক।
বাংলাদেশিদের জন্য দীর্ঘ বিরতির পর আবারও চালু হচ্ছে ভারতের ভ্রমণ ভিসা। রোববার (২৮ জুন) থেকে বাংলাদেশি নাগরিকরা ভারতীয় ট্যুরিস্ট ভিসার জন্য আবেদন করতে পারবেন। এই ঘোষণার পরই কলকাতার ব্যবসায়ী মহলে দেখা দিয়েছে উৎসবের আমেজ। আনন্দ প্রকাশ করতে অনেক ব্যবসায়ী একে অপরকে মিষ্টিমুখও করিয়েছেন।
ভিসা কার্যক্রম পুনরায় শুরুর খবরে রোববার কলকাতার নিউ মার্কেট, মারকুইস স্ট্রিট ও ফ্রি স্কুল স্ট্রিট এলাকার বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠন বৈঠকে বসে। সেখানে বাংলাদেশি পর্যটকদের আরও উন্নত সেবা নিশ্চিত করা, নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা, সিসিটিভি নজরদারি বৃদ্ধি এবং অবকাঠামোগত ঘাটতি দূর করার বিষয়গুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
ব্যবসায়ীদের প্রত্যাশা, দুই বছর আগে যেভাবে বাংলাদেশি পর্যটকেরা কলকাতার অভিজ্ঞতা নিয়ে ফিরেছিলেন, এবারও যেন একই আন্তরিকতা ও নিরাপদ পরিবেশ পান। তাঁদের লক্ষ্য, কোনো ধরনের শঙ্কা ছাড়াই বাংলাদেশিদের জন্য আগের মতোই স্বাচ্ছন্দ্যময় ভ্রমণ নিশ্চিত করা।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর বাংলাদেশিদের জন্য পর্যটন ভিসা বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে সবচেয়ে বড় ধাক্কা খেয়েছিল নিউ মার্কেট, মারকুইস স্ট্রিট, ফ্রি স্কুল স্ট্রিট, সদর স্ট্রিট ও লিন্ডসে স্ট্রিটের মতো পর্যটকনির্ভর বাণিজ্যিক এলাকাগুলো। দীর্ঘদিন বিক্রি কমে যাওয়ায় অনেক ব্যবসায়ী ঋণের বোঝা কাঁধে নিয়েছেন, কেউ ব্যবসা গুটিয়ে ফেলেছেন, আবার কেউ বাধ্য হয়েছেন পেশা পরিবর্তন করতে।
ভিসা পুনরায় চালুর ঘোষণায় এখন পুরো নিউ মার্কেট এলাকায় নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। হোটেল মালিক, পোশাক ব্যবসায়ী, মানি এক্সচেঞ্জ, মোবাইল সিম বিক্রেতা থেকে শুরু করে হাতে টানা রিকশাচালকরাও আশা করছেন, আবারও বাংলাদেশি পর্যটকদের ভিড়ে মুখর হয়ে উঠবে কলকাতার এই জনপ্রিয় বাণিজ্যিক অঞ্চল।
মারকুইস স্ট্রিট-ফ্রি স্কুল স্ট্রিট ট্রেডার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এবং সোহাগ পরিবহনের কর্ণধার মনোতোষ সাহা বলেন, গত দুই বছর ব্যবসার জন্য অত্যন্ত কঠিন ছিল। এখন তাঁদের প্রত্যাশা, বাংলাদেশি পর্যটকদের আগমনের মাধ্যমে নিউ মার্কেট আবারও আগের প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে পাবে।
গ্রিন লাইনের কর্ণধার সঞ্জয় মজুমদার জানান, শুধুমাত্র মেডিকেল ভিসার যাত্রীদের ওপর নির্ভর করে পরিবহন ব্যবসা সচল রাখা সম্ভব হয়নি। ফলে গত দুই বছরে মারকুইস স্ট্রিটের ব্যবসা কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছিল। তিনি আশা করছেন, ভ্রমণ ভিসা চালুর ফলে সেই মন্দা কাটিয়ে আবারও স্বাভাবিক অবস্থা ফিরবে।
কটন গ্যালারির কর্ণধার কামরুদ্দিন মালিকের দাবি, গত দুই বছরে নিউ মার্কেটের ব্যবসা প্রায় ৬০ শতাংশ কমে যায়। তাঁর বিশ্বাস, ভিসা পরিষেবা পুরোপুরি স্বাভাবিক হলে ব্যবসায় আবারও গতি ফিরে আসবে।
নিউ মার্কেটের গ্লোব ফার্মেসির কর্মী কুসুম বলেন, তাঁদের ব্যবসার একটি বড় অংশই বাংলাদেশি ক্রেতাদের ওপর নির্ভরশীল। বাংলাদেশ থেকে আসা অনেকেই ওষুধ, প্রসাধনী এবং শুকনো খাবার কিনে থাকেন। তাই ভিসা পুনরায় চালুর সংবাদ তাঁদের জন্য অত্যন্ত আনন্দের।
ব্যবসায়ীদের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশি পর্যটকের সংখ্যা কমে যাওয়ায় মারকুইস স্ট্রিট ও ফ্রি স্কুল স্ট্রিটের ব্যবসা প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছিল। নিউ মার্কেটে বিক্রি কমেছিল প্রায় ৬০ শতাংশ, যার প্রভাব পড়েছিল বড়বাজারের ব্যবসাতেও। ফলে ভ্রমণ ভিসা পুনরায় চালুর সিদ্ধান্তকে শুধু ব্যবসায়িক নয়, কলকাতার পর্যটন শিল্প ও স্থানীয় অর্থনীতির জন্যও ইতিবাচক মোড় হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। এখন তাঁদের প্রত্যাশা, বাংলাদেশি পর্যটকদের ফিরিয়ে এনে আবারও আগের ব্যস্ততা ফিরে পাবে কলকাতার বাণিজ্যিক এলাকা।
দৈনিক জীবন যাএা
এস এম সোহাগ ফরাজী